সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার পর এবার শাল্লা উপজেলার বাঘার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে। কৃষকদের চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে হাজার একর ফসলি জমি। এছাড়া জেলার বিশ্বম্ভরপুর, দিরাই, শান্তিগঞ্জ, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশাসহ সবকটি উপজেলায় বোরো ফসল হুমকির মুখে। বন্যা হওয়ার আগেই হালকা বৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে হাওরের বাঁধ। হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করার আগ থেকে বাঘার হাওরের কৃষক এখানে প্রকল্প গ্রহণের জন্য দাবি জানালেও পাউবো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঢলের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের বোরো ধান।

এদিকে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সার্ভে টিমের মেজারমেন্ট অনুযায়ী প্রকল্প দেয়া হয়েছে। ফলে এ হাওরের বাঁধ আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

গতকাল বিকালে নদীর পানি উপচে শাল্লা উপজেলার বাঘার হাওরে পানি প্রবেশ করে। এতে খুব দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে এ হাওরের এক হাজার একর জমির ফসল। নিরূপায় অনেকে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আগে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাঘার হাওরের বাঁধ এলাকায় এক হাজার একর জমি রয়েছে। শুরু থেকেই এ এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রকল্প না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় অবৈধ সুবিধা নিয়ে প্রকল্প দিয়ে সরকারের টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এ হাওরের কৃষক।

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী জয়ন্ত সরকার বলেন, ফসল তলিয়ে যাওয়ার সময় বাবার কান্না দেখে নিজেই কাঁচি হাতে ধান কাটায় অংশ নিচ্ছি। হাওরে ধান এখনো পাকেনি। কেবল শীষ বের হয়েছে। ধান পাকতে আরো ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগত। এখন মনের সান্ত্বনার জন্য ধান কেটে নেয়া হচ্ছে। বাঘার হাওরের কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, এ হাওরের ১০ কেয়ার জমি করেছি। বন্যা আসার আগেই ঢলের পানিতে চোখের সামনেই সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কীভাবে চলব ভেবে পাচ্ছি না।

আবু বক্কর নামের আরেক কৃষক বলেন, ঋণ করে হাওরে ৩০ কেয়ার জমির করেছিলাম কিন্তু ঢলের পানিতে তলিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এ এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প দেয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। আবেদনও করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমাদের এ ফসলডুবির দায়ভার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নিতে হবে।

শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমাদের হাওর রক্ষা বাঁধ এখনো ভাঙেনি। যেদিক দিয়ে বাঘার হাওরে পানি প্রবেশ করেছে এটা আমাদের তালিকার বাইরে। আমাদের আওতায় যে বাঁধ রয়েছে সেগুলোয় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। ঝুঁঁকিপূর্ণ কোনো বাঁধ শাল্লায় নেই।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,  পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার প্রধান নদনদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় আগামী ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক নজর রাখতে জনসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছেন।