টানা দ্বিতীয় দিনের মত রণক্ষেত্র বগুড়া। রোববার (৪ আগস্ট) পুলিশের সঙ্গে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে চারজন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিহত সবার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬৫ জন রাবার বুলেটে আহত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এছাড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রায় শতাধিক আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা গ্রহণ করে।
দুপুরে ধাওয়া পাল্টা চলাকালে এক দল যুবক জেলা শহরের সাতমাথায় থাকা জেলা
পরিষদের সরকারি ডাকবাংলো তছনছ করে অগ্নিসংযোগ করে। আসবাবপত্র বের করে নিয়ে এসে সড়কের
ওপর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় সেখানে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ও পুলিশের পোশাক আগুনে
পুড়িয়ে দেয়া হয়। ডাকবাংলোর ২৭টির মধ্যে বেশিরভাগ রুমেই অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া, আগুন
ও ভাংচুর করেছে জেলার প্রধান ডাকঘর, ছাত্র ইউনিয়ন কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়,
বগুড়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস, টিঅ্যান্ডটি অফিসের গাড়ীর গ্যারাজে, আওয়ামী লীগ অফিস,
দুই আওয়ামী লীগ নেতার বাসভবনে ভাংচুর ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপুর
বাসভবনের গ্লাস ভাংচুর করার পর তার গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পার্কিং করে রাখা ৫ থেকে ৬টি মোটরসাইকেলও
অগ্নিসংযোগ করা হয়। জেলার শেরপুর উপজেলায়ও দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। একসময়
পুলিশ সদস্যদের থানার মধ্যে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের থানা
থেকে বের হতে দেয়নি। পরে পুলিশ সদস্যরা অবরোধকারীদের টিয়ার শেল ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে
দেয়।
নিহত চারজনের মধ্যে রয়েছেন জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় রাবার বুলেটে মনিরুল
উদ্দিন (২৩) নামের এক যুবক। তিনি কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা।
এছাড়া বগুড়া সদর উপজেলার ঝাউতলায় রাবার বুলেটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (৪২), এছাড়া বগুড়া
সদরের ইসলামপুরের বাসিন্দা সেলিম রেজা (৩৫) আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়ে আহত হন।
তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সে মারা যায়। এই তিনজন ছাড়াও জেলা শহরের নামাজগড় এলাকার
স্বদেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আব্দুল
ওয়াদুদ জানান, রোববার দুপুর থেকে হাসপাতালে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়ে ৬৫ জন চিকিৎসাধীন
রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন আরো কয়েকজন।
হাসপাতালেরর মর্গে এখন পর্যন্ত ৪টি মৃতদেহ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে মরদেহের কারো
কারো শরীরে রাবার বুলেটের মত দাগ রয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, পুলিশের ওপর হামলা, ইট পাটকেল ছুঁড়েছে
আন্দোলনকারীরা। বেশকিছু টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য
আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে
কাজ করছে।










