অতিবিপন্ন উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশের সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ বৈলাম। এক সময় সমতলে বৈলাম গাছের উপস্থিতি থাকলেও এখন খুব একটা দেখা মেলে না। জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে নিধনসহ নানা কারণেই বিলুপ্তির পথে বৃক্ষটি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে এখনো অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে বৈলাম। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও বিলাইছড়ির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কিছুসংখ্যক বৈলাম গাছের দেখা পাওয়া যায়। এছাড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে বন বিভাগের নিজস্ব নার্সারিতেও।

বৈলাম বড় আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ। উচ্চতায় ৩০-৪৫ মিটার। অনেকে এটিকে আকাশ ছোঁয়া বৃক্ষও বলেন। বুকসমান উচ্চতায় একটি বৈলাম গাছের বেড় ১২০-১৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছের প্রধান কাণ্ড সরল ও সোজা; অনেকটা নলাকার আকৃতির। নিচের দিকটা ডাল-কাণ্ডবিহীন।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ পরিচিত’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ বৈলাম স্থানীয় পর্যায়ে বইলাম নামেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় বৈলাম বিশ্বব্যাপী একটি মহাবিপদাপন্ন প্রজাতির গাছ। বন উজাড়, মাতৃবৃক্ষের অপ্রতুলতা ও অতিরিক্ত কাঠ আহরণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বৈলাম গাছ দুষ্প্রাপ্য ও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার, কাপ্তাই, বিলাইছড়ির সংরক্ষিত বন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নার্সারি এটি সংরক্ষণ করছে।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মূলত মাঝারি আকৃতির একটি বৃক্ষ। বৈলাম গাছের বীজ দুটি বড় ডানাবিশিষ্ট; যা বীজকে বেশ দূরে উড়ে যেতে সহায়তা করে এবং প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার সহজ হয়। বীজের আয়ুষ্কাল কম হওয়ায় গাছ থেকে ঝরে পড়ার দুই-একদিনের মধ্যেই রোপণ করতে হয়।

বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গামাটির অধিক্ষেত্রাধীন কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের কাপ্তাই রেঞ্জ, কর্ণফুলী রেঞ্জ এবং বিলাইছড়ির আলীখিয়ং রেঞ্জ ও ফারুয়া রেঞ্জে এখনো বিক্ষিপ্তভাবে বেশকিছু বৈলাম গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া কর্ণফুলী রেঞ্জের অ্যাসিস্ট্যাট ন্যাচারাল রিজেনারেশন বাগানে বেশ কিছু পরিমাণ বৈলাম চারা রোপণ করা হয়েছে।’