বাংলাদেশে কোনো সরকারই আদিবাসীদের অধিকার ও স্বীকৃতি দিতে চায়নি এবং দেয়নি। রাষ্ট্র আমাদের স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও জাতিসংঘ দিয়েছে। গতকাল রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান, সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার প্রমুখ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশে যতবার যে সরকারই এসেছে, কোনো সরকারই আদিবাসীদের অধিকার ও স্বীকৃতি দিতে চায়নি এবং দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে যখন আদিবাসীদের কথা বলেছেন, তখন অনেকে চেঁচিয়ে উঠেছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন। প্রধান উপদেষ্টা যেন আদিবাসী বলে অপরাধ করে ফেলেছেন। তেমনি আজকে আমরাও আদিবাসী হয়ে যেন অপরাধ করেছি।’

সভায় বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র আমাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও জাতিসংঘ দিয়েছে। আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও আমাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও উপজাতি বলা হচ্ছে। আমরা সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। এ ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভার আগে বেলুন উড়িয়ে আদিবাসী দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। পরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে দুপুরে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরে।