জরাজীর্ণ টিনের চালাবিশিষ্ট ভবনটি দেখলে যে কারো মনে হবে এটি একটি পরিত্যক্ত স্থাপনা। দেয়ালের ফাটল থেকে গজিয়েছে বটগাছ। পলেস্তারা উঠে গেছে। ঘরের মধ্যে টিনের চালের নিচে দেয়া সেলিং পানি পড়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। ভাঙা জানালা, দরজা আর পুরনো টিনের চালায় বৃষ্টির পানি পড়লেই তা দেয়াল চুঁইয়ে পড়ে। সে পানির দাগ রয়েছে ভবনটির দেয়ালজুড়ে। এমনই জরাজীর্ণ দশা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটির।
প্রায় ৫০
ফুট লম্বা ও বারান্দাসহ ৪০ ফুট প্রস্থ পুরনো ভবনটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় এখন তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপায় না থাকায় এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা এবং চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এখানে একসময় বিহারিদের বাসস্থান ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় করা হয়। ভবনটির সামান্য উত্তরে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনসহ আশপাশের সব ভবন চকচকে আধুনিক করা হলেও এ ভবনের সংস্কার আর হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ ভবনটিতে কাজ চালাতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
অথচ এ
কার্যালয় থেকেই সদর উপজেলার ৪৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক, সাতটি সাবসেন্টার, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাসহ মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ ভবনেই সংরক্ষণ করে রাখা হয় উপজেলায় প্রদত্ত করোনাভাইরাসের টিকা। এমন অবস্থায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ছোট দুটি কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে রোগীদের রক্ত, কফসহ বিভিন্ন পরীক্ষার কাজ। জেলা সদরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়টির এমন জীর্ণদশা যেমন বেমানান, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তিনজন চিকিৎসকসহ মোট ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ আব্দুর রহিম বলেন, ভবনটিতে সবসময় স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে। এখানে সাধারণ মানুষ এলেই অসুস্থ হয়ে যাবে। এখানেই শিশু ও মায়েদের সেবা দিতে হচ্ছে। প্রায় পরিত্যক্ত ভবনে বসে সেবা দিতে হয়। ভয় করে কখন যেন ভেঙে পড়ে।
প্রায় ১১
বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে এ কার্যালয়ে কাজ করা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শারমিন আক্তার বলেন, ভবনে অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি রয়েছে। যেগুলোর কোনো নিরাপত্তা নেই। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির যে অবস্থা, তাতে যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কার্যালয়ের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ সহকারী শাহ আলম বলেন, তার রুমে সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। সবসময় স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হয়। এখানে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া দূরের কথা, মানুষের বসার জন্যও উপযোগী নয়। জেলা সদরে হয়েও ভবনটির এ নাজুক অবস্থা পরিবর্তনে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি যোগদান করা সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় জানান, নিজস্ব জায়গা না পওয়ায় এতদিন নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এখন নিজস্ব জায়গা পাওয়া গেছে। ভবন নির্মাণের অর্থ বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং তখন ভবন নির্মাণ করা হলে এ সমস্যাগুলো আর থাকবে না।










