চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশী নাগরিকের প্রত্যেকের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬৩ বিদেশীর প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশী নাগরিকের প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগামী ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার নগরীর খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়। তবে তাদের কারো কাছ থেকে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। গ্রেফতার বিদেশীদের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কের ‘বিশ্রাম ভবনের’ নিচতলায় ‘স্টিড ফাস্ট’ কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং থাকা মালামাল তল্লাশি করে দুটি পলিব্যাগ থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ৬০ গ্রাম ও অন্যটিতে ৫৮ গ্রাম কোকেন ছিল। জব্দ করা কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আব্দুর রউফের ছেলে রিয়াদুল আহমেদ ও ঢাকার দক্ষিণখানের কলিল বক্স রোডের আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়। পরে গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এসএম মহসিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কোকেনের চালান আটকের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। একপর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পান।
অভিযানে ভবনের প্রতিটি তলায় তৈরি করা সার্ভার স্টেশনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস পাওয়া যায়। সেগুলো জব্দ করা হয়।










