দেশে অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ ও নিয়মিত খোঁজ নেয়ার অভাব থাকায় রোগীদের নিরাপদ সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক, ফোরাম ফর ইউএইচসি এবং কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। সূচনায় বিষয়ের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন কোয়ালিটি কেয়ার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আমিনুল হাসান।
বিশেষজ্ঞ আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফায়েজ বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে রোগ শুরুতেই শনাক্ত করা প্রয়োজন। রোগীর নিরাপত্তা কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য নিরাপদ খাবার, হাঁটা, ধূমপান বারন, লবণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. রুমানা হক জানান, ভুল চিকিৎসা ও অনুপযুক্ত ওষুধের কারণে রোগীর পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ পরিবার অসংক্রামক রোগের খরচের মুখোমুখি হচ্ছে। নিজেদের পকেট থেকে এ খরচ চালাতে গিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. মো. আকরামুল ইসলাম জানান, অসংক্রামক রোগ শনাক্ত হলেও চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় বড় ঘাটতি রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রোগ ধরা পড়ার পর প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ যাতায়াত খরচ, সময় ও ওষুধের অভাবে হাসপাতালে যান না। এ জন্য ইউনিয়ন ও নগর ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আইএইচআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এম রফিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগের প্রতিটি ধাপেই ঝুঁকি থাকে। এসব ঝুঁকি কমাতে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।










