জয়পুরহাটে উত্তরা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ছেড়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর যাচ্ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর বগিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে বগির কয়েকটি সিট পুড়ে গেলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে সান্তাহার জিআরপি থানায় মামলা করেছেন।

রমজান আলী নামে ট্রেনের এক যাত্রী বলেন, ‘উত্তরা ট্রেনের ওই বগিতে আমিসহ ১০-১২ যাত্রী ছিলাম। আমরা পাঁচ-ছয়জন ব্যবসায়ী সান্তাহার থেকে কাপড় কিনে বাড়ি যাওয়ার জন্য তিলকপুর স্টেশন থেকে উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেছিলাম। ট্রেনটি আক্কেলপুর ও জামালগঞ্জ রেলস্টেশন ছেড়েছে, তখন আমাদের সবার চোখে ঘুম ঘুম ভাব ছিল। জয়পুরহাট রেলস্টেশনে পৌঁছার আগে বগি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দেখি, আমাদের আসনের কয়েকটি আসন পরে একটি আসনে আগুন জ্বলছে। তখন পেট্রলের গন্ধও পাচ্ছিলাম। আগুন বাড়তে থাকায় আমরা ভয় পেয়েছিলাম। এ ঘটনার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ট্রেনটি জয়পুরহাট রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতি করে। তখন আমরা দ্রুত রেলস্টেশনে নেমে পড়ি। পরে লোকজন এসে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন।’

সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন জানান, রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী উত্তরা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনটি শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালগঞ্জ স্টেশন ছেড়ে জয়পুরহাট স্টেশন অভিমুখে যাত্রা করে। ট্রেনটি জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছলে একটি বগিতে আগুন দেখতে পান যাত্রীরা। পরে স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। কারা ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়েছে তা জানতে তদন্ত চলছে।

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বলন্ত অবস্থায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছে। আগুনে তেমন ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে। স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। ট্রেনটি ১ ঘণ্টা পর স্টেশন ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করে।

এর আগে দুর্বৃত্তরা রেলপথের একটি অংশ কেটে রাখায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গাজীপুরের ভাওয়াল স্টেশনের কাছে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পরদিন রাত ১০টার দিকে নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনের ৭৮টি ফিশপ্লেট ক্লিপ খুলে নাশকতার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ক্লিপ খোলার শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়ায় তারা পালিয়ে যায়।