রাজবাড়ীতে দুইদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে পেঁয়াজবীজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। তারা বলছেন, এ বছর লাভ তো দূরের কথা খরচের টাকাও উঠবে না তাদের। ঝড়ে পেঁয়াজবীজচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে যাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, পেঁয়াজ চাষে ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হবে প্রণোদনা ও পরামর্শ। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজবাড়ীর তথ্যমতে, সারা দেশের ১৫ শতাংশ পেঁয়াজ রাজবাড়ী জেলায় উৎপাদন হয়। এবারো জেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। জেলায় হালি পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ২০০ টন পেঁয়াজবীজ প্রয়োজন হলেও উৎপাদন হয় ৮০ টন। বাকি ১২০ টন ঘাটতি থাকে, যা পাশের জেলাগুলো থেকে পূরণ করা হয়। 

জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দামুকদিয়া ও গরিয়ানা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সাদা পেঁয়াজ ফুলে ভরা মাঠ। মৌমাছির অভাবে পরাগায়ন না হওয়ায় ফলন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কৃষক। এর ওপর শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে পেঁয়াজের গাছসহ সাদা কদম। এতে আক্রমণ শুরু হয়েছে ছত্রাক ও পোকার। তাই পোকা তাড়াতে ওষুধ দিতে ব্যস্ত গরিয়ানা গ্রামের কৃষক আকিবর সরদার। 

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বিঘাপ্রতি এক মণ পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হলেও এ বছর অর্ধেক ফলন নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। প্রথমত, মৌমাছির অভাবে পরাগায়ন ঘটেনি। যে কারণে বীজের কদম আকারে ছোট হয়েছে। আবার বৃষ্টিতে গাছ মাটির সাথে নুইয়ে পড়েছে। এতে বীজ চিটা হয়ে নষ্ট হবে অর্ধেক।’

একই এলাকার কৃষক বিপুল কুমার রায় বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজবীজ আবাদ করতে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় আবাদ খরচ বেশি পড়েছে। এর ওপর ঝড়ের কারণে পেঁয়াজ গাছ মাটিতে মিশে গেছে। ফলে এ বছর ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। মদাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তা কোনোদিনও মাঠে আসেন না। তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি কোনো পরামর্শ। তবে শোনা যায়, তিনি তার স্বজনদের সার, বীজ দিয়ে থাকেন। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে আমাদের আগ্রহ থাকবে না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজবাড়ীর উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‌রাজবাড়ীতে এ বছর ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এতে ২০০ টন পেঁয়াজবীজ প্রয়োজন হয়। রাজবাড়ীতে প্রতি বছর ৮০ টন পেঁয়াজবীজ উৎপাদন হয়, বাকি ১২০ টন বীজ জেলার বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। বৃষ্টিতে পেঁয়াজবীজের ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি তা জানার জন্য সব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামীতে পেঁয়াজবীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সবসময় পেঁয়াজচাষীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।’