বান্দরবানে দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দুটি সড়ক উন্নয়নকাজ। সড়ক দুটিতে ইউনি ব্লকের কাজ করছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাধার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে দাবি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। তবে ২০২০ সালে দেয়া তথ্য উপেক্ষাসহ এলজিইডির সমন্বয়হীনতার কারণে তাদের বাধা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী। সড়ক দুটি উন্নয়ন বোর্ডের আইডিভুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও কক্সবাজারের উখিয়ার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। বালুকিয়া-ফাত্রাঝিরি সড়কের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের আইডিভুক্ত দাবি করে ওভারল্যাপিং কাজে বাধা দিয়েছে কক্সবাজার এলজিইডি। এ কারণে টেন্ডারে দেয়া ধরন অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারছে না বান্দরবান এলজিইডি। তবে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের বালুকিয়া-ফাত্রাঝিরি সড়কে এক কিলোমিটারে ইউনি ব্লকের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এন জাহান ট্রেডার্স, যারচুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ঘুনধুমের সড়কটিতে ৭০০ মিটারের অধিক পড়েছে কক্সবাজার জেলার অংশে। এজন্য কক্সবাজার এলজিইডির অনুরোধে ওই অংশে একটি প্রটেকশন ওয়াল ছাড়া বাকি কাজ গুটিয়ে নিয়েছে বান্দরবান এলজিইডি। ওই সড়কে বান্দরবান অংশের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
গ্রামীণ সড়ক না হলে ইউনি ব্লক করার বিধান নেই বলে জানিয়েছেন এলজিইডির উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সড়কটি ঘুনধুম ইউনিয়ন ও উখিয়া উপজেলার সংযোগ সড়ক হলেও বান্দরবান অংশটি গ্রামীণ ও কক্সবাজার অংশটি ইউনিয়ন সড়ক। এছাড়া উখিয়া অংশে ওভারল্যাপিং না করতেও বান্দরবান এলজিইডিকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, ‘সড়কটির কক্সবাজার অংশে মাটি কাটাসহ এক স্থানে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ শুরু করেন বান্দরবানের ঠিকাদার। ওই সড়কের উখিয়া সীমানা পর্যন্ত কক্সবাজার কার্যালয়ের করা টেন্ডারে ধরা ছিল না। এজন্য কক্সবাজার অংশে হলেও প্রটেকশন ওয়াল করতে সম্মতি দিয়েছি।’
এদিকে বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা-বাগমারা সড়কের দুই কিলোমিটারে ইউনি ব্লকের কাজ পেয়েছে লুম্বিনী এন্টারপ্রাইজ। এ কাজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। এছাড়া আলীকদম উপজেলার সড়ক ও জনপথ সড়ক থেকে পাট্টাখাইয়া অংশে প্রায় চার কিলোমিটার ইউনি ব্লকের কাজ পায় চট্টগ্রামের শাহ জব্বারিয়া অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কাজগুলোর ধরনের মধ্যে রয়েছে ইউনি ব্লক স্থাপন, ক্রস ড্রেন, বাউন্ডারি ও প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ। গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দুটি সড়কে কাজ শুরু হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাধার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
স্কিম গ্রহণের আগে এলজিইডি সমন্বয় করেনি বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২০ সালে সদর ও আলীকদম উপজেলার ওই দুটি সড়কসহ ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৪টি গ্রামীণ সড়ক ও ৭০টি পল্লী সড়ক সড়কের তালিকা এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেয়া হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে ওভারলেপিং না হয়। গত বছরের নভেম্বরে কাজ শুরু হলে বাধা দেয়া হয়। সে সময় দুটি সড়কের কাজ এলজিইডিকে না করে উন্নয়ন বোর্ডকে করতে বলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং কিন্তু এসব অমান্য করে সম্প্রতি আলীকদম উপজেলার ওই সড়কে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সড়ক দুটির টেন্ডার হয়ে গেছে। চলতি মাসেই কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে।’
তবে উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তালিকার খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছেন এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার। উন্নয়ন বোর্ড বাধা দেয়ায় আপাতত দুটি সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছি জানিয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২০ সালে দেয়া তালিকার একটি কপি দিতে অনুরোধ করেছিলাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এখনো পায়নি। যে দুটি সড়ক তাদের বলে দাবি করছে, তার কোনো প্রজ্ঞাপনও তিনি দেখাচ্ছেন না। সড়ক দুটিসহ ডিপিপিতে থাকা সড়কগুলোর তালিকাও চেয়েছি, কিন্তু দেয়নি। জেলায় এলজিইডির আইডিভুক্ত ২ হাজার ৯০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কার্পেটিং, ইট বিছানো সড়ক মিলে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সড়ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়কগুলো এলজিইডিই বাস্তবায়ন করবে বলে প্রধান কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।’










