বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘‌এ অবৈধ সরকারকে আমরা মানি না। বিএনপি নির্বাচন চায়, তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, শেখ হাসিনার অধীনে নয়। সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, নতুন পার্লামেন্ট গঠন করে জনগণের স্বপ্ন সুন্দরভাবে গড়তে হবে।’

তিনি গতকাল বরিশাল বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

বিএনপি এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‌আমরা এ অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। এ অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো দিন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আর ভোট তো দিতেই পারব না। তাই একে সরানো এখন ফরজ হয়ে গেছে। গোটা দেশের মানুষও চায়, অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশীরাও বলছে, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। ওই জন্য স্যাংশন দিয়ে দিয়েছে র‍্যাবের ওপর। এটা আমাদের জন্য খুব একটা আনন্দের কথা নয়।’

বিএনপির সাত শতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‌২০১২ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ১১ বছর আগে এই হাসিনা সরকারের সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ফিরোজ খান, মিরাজ খানকে তুলে নিয়ে গেছে। শুধু এ দুজনই নয়, আমাদের সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে তারা গুম করেছে। আমাদের ইলিয়াস খান ২০১২ সালে যখন গুম হয়ে যায়, তার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর, এখন ১৭-১৮ বা তার বেশি বয়স হয়ে গেছে তার। কিন্তু এখনো সে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে—এই বুঝি তার বাবা ফেরত এল। এ ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকার আজ শিশুদের পিতৃহারা করেছে, মায়েদের সন্তানহারা করেছে, স্ত্রীকে স্বামীহারা করেছে।’

বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তারুণ্যের সমাবেশ প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান প্রমুখ।