মুন্সিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছয় মাস ধরে অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) নেই। সাপে কাটা রোগী এলে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকায়। আর এতে অনেকে পথেই মারা যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে সরবরাহ নেই অ্যান্টিভেনম। এ সময়ে হাসপাতালে আসা সাপে কাটা রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকালও হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয় সাপে কাটা এক নারী রোগীকে। কিন্তু পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই নারীকে বিষধর সাপ কামড়ালে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন তিনি। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তার শরীরে বিষ রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকায় তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পরে সকাল ৮টার দিকে ঢাকার পথে রওনা দিলে রাস্তায় মৃত্যু হয় ওই নারীর। মৃত চায়না মণ্ডল (৪৫) টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা এলাকার পানাত মণ্ডলের স্ত্রী বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
গত শুক্রবারও একই উপজেলার সোনারং গ্রামের পিয়ারা বেগমকে (৫০) সাপে কামড় দিলে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা। তাকেও অ্যান্টিভেনম না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয় হাসপাতাল থেকে। ওই নারীকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নেই। বিষয়টি অবহিত করে ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অ্যান্টিভেনমের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যেই অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।










