১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চালু হতে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া চূড়ান্ত করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।  বিশেষ ট্রেন বিবেচনায় ও আংশিক বিরতিযুক্ত ট্রেন হিসাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি ভাড়া গুণতে হবে এই ট্রেন ভ্রমণে।  শুরুতে শুধু ঢাকার যাত্রীরা এই ট্রেন ভ্রমণ করবেন— এমন সিদ্ধান্ত হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি কোচ চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী কোচ পাওয়া না যাওয়ায় নতুন এই ট্রেনটিতে আপাতত এসি সিট কিংবা এসি বার্থ শ্রেণীর আসন রাখা হচ্ছে না। 

শুরুতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত  শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল  ৫০০ টাকা।  কিন্তু বিশেষ ট্রেন  (ট্যুরিস্ট ট্রেন) হিসাবে ১০০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে ভ্রমণে রেলের রেয়াতি ভাড়া বাদ দেয়া হয়েছে।  স্টেশন অনুযায়ী কিলোমিটার প্রতি ভাড়ার ভগ্ন সংখ্যা বাদ দিয়ে রাউন্ডআপ করে ১০ শতাংশ ননস্টপ চার্জ যুক্ত করায় ট্রেনটির ভাড়া বেড়ে গেছে।  এর মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর আসনগুলোতে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও যুক্ত করেছে রেলওয়ে।

গত ১১ নভেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  উদ্বোধনের সময় ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দুটি ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।  ১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে কক্সবাজার একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে।  কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি দিলেও বিরতিহীন (আংশিক বিরতি) হওয়ায় চট্টগ্রামের কোনো আসন বরাদ্দ রাখা হয়নি।  এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রেলওয়ে।  মঙ্গলবার সকালে ট্রেনটির বাণিজ্যিক অনুমোদনের পর বুধবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য একটি শোভন চেয়ার ও একটি এসি চেয়ার কোচ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার বিকালে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন অনুযায়ী ভাড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়।  মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. তৌফিক ইমাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ননস্টপ ট্যুরিস্ট ট্রেন হিসাবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটির ভাড়া অনুমোদন দেয়া হয়।  

এতে ৫৩৫ কিলোমিটার বাণিজ্যিক দূরত্বের এই পথে শোভন চেয়ার টিকিটের ভাড়া ৬৯৫ টাকা, এসি চেয়ার শ্রেণীর জন্য ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের জন্য ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থ শ্রেণীর জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮০ টাকা।

তবে কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেয়া দুটি কোচে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ভ্রমণে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের মতোই ভাড়া প্রদান করতে হবে যাত্রীদের। কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রামের জন্য দুটি কোচ বরাদ্দ রাখা হলেও ট্রেনটির রেক কম্পোজিশনে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

নিয়ম অনুযায়ী ১  ডিসেম্বর ট্রেন চালু হলে ২১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) অর্থাৎ ১০ দিন আগেই টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু যথাসময়ে ট্রেনটি বাণিজ্যিক চলাচল অনুমোদন না হওয়া, চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য আসন রাখা নিয়ে সৃষ্ট সংশয়ের কারণে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেনি রেলওয়ে।  

গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের অনুমোদনের প্রস্তাব দেয়া হলেও সেটি অনুমোদন হয় ২১ নভেম্বর। এরপর সেটি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) এর অনুমোদন নিয়ে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) অনুমোদন সাপেক্ষে টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।  সিদ্ধান্তটি রেলওয়ে টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সহজ ডটকমের কাছে পাঠানো হয়েছে।  সফটওয়্যারে কোচ অনুযায়ী সিট বিন্যাস ও ভাড়া সংযুক্ত করে বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারের প্রথম ট্রেনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হবে। 

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটির ৮১৪ এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকা গামী  ট্রেনের নম্বর ৮১৩।  ঢাকা থেকে মঙ্গলবার এবং কক্সবাজার থেকে প্রতি সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রাখা হয়েছে। 

রেলের নথিপত্রে দেখা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের মোট ৭৮০ আসনের মধ্যে স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৩৩০টি ও শোভন চেয়ার ৪৫০টি আসন।  এর মধ্যে ঢাকা (কমলাপুর) থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত শোভন চেয়ার ১২০টি ও স্নিগ্ধা ১১০টি আসন, কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ার ২৭০টি ও স্নিগ্ধা ১৬৫টি, চট্টগ্রাম পর্যন্ত শোভন চেয়ার ৬০টি ও স্নিগ্ধা ৫৫টি আসন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  আবার বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২০টি শোভন চেয়ার ও ১১০টি স্নিগ্ধা এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৬০টি শোভন চেয়ার ও ৫৫টি স্নিগ্ধা টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  চাহিদা অনুযায়ী কোচ পাওয়া না যাওয়ায় নতুন এই ট্রেনটিতে এসি সিট কিংবা এসি বার্থ শ্রেণীর আসন রাখা হচ্ছে না। ১৬/৩২ রেকের এই ট্রেনটির একটি কোচ পাওয়ারকার হিসাবে যুক্ত থাকবে।

এর আগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আবু বক্কর সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে কক্সবাজারে নতুন ট্রেন অনুমোদনের বিষয়টি রেলওয়ে পরিবহন, বাণিজ্যিক ও মেকানিক্যাল, সংকেতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেশনের মাস্টারদের জানিয়ে দেয়া হয়। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮১৪ নং ট্রেনটি ১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছবে দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে।  এরপর চট্টগ্রাম থেকে ভোর ৪টায় ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে।  পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে পৌঁছে ৫ মিনিট যাত্রা বিরতি দেবে। 

 অপর দিকে ৮১৩ নম্বর ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে ছাড়বে প্রতিদিন (সাপ্তাহিক বন্ধ ব্যতীত) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে।  ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে (ইঞ্জিন পরিবর্তনজনিত কারণে) ছেড়ে যাবে বিকাল ৪টায়।  ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে রাত ৮টায় পৌঁছে ৩ মিনিট বিরতি দিয়ে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

 এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) মো. নাজমুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।  বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটের ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্যুরিস্ট ট্রেনে চট্টগ্রামের আসন রাখা হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামের যাত্রীরাও নতুন এই ট্রেনে সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারবেন।  বৃহস্পতিবার থেকে নতুন এই ট্রেনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে।