লালমনিরহাটের জীবিত দুই ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল কাদের ভাষানীর বাড়িতে গিয়ে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন, সেই সঙ্গে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
এর আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনী, রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করা হয়।
গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের দুই ভাষাসৈনিককে তাদের বাড়িতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা দেয়া হয়। এ প্রথম জেলা প্রশাসন ভাষাসৈনিকদের বাড়িতে সম্মান জানাল। একটি ফুলের তোড়া ও লালমনিরহাটের কাকিনায় তৈরি তাঁতের দুটি শাল উপহার দেয়া হয়।
লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের নওদাবাস এলাকার বাসিন্দা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সৈনিক মো. জহির উদ্দিন আহমেদের হাতে প্রথমে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা তুলে দেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাশেদুল হক প্রধান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর টিএম রাহসিন কবিরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন গাড়ি বহরটি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ভাষাসৈনিক আব্দুল কাদের ভাষানীর বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা হাতে তুলে দেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা হাতে পেয়ে ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ প্রথম জেলা প্রশাসন আমার মতো একজন নগণ্য ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে। এতে আমি গর্বিত। এজন্য সরকারের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমার জীবনের শেষ চাওয়া যেন ক্যান্সার গবেষণায় আমাকে সরকার কাজে লাগায়।
অন্য ভাষাসৈনিক আব্দুল কাদের ভাষানীও জেলা প্রশাসক আবু জাফরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার করা হয়। এতে যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে। কেননা পৃথিবীতে একমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই লড়াই হয়েছে। অনেককেই জীবন দিতে হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানিয়েছি। এতে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও মমত্ববোধ বোঝাতে জেলা প্রশাসনে কর্মরত নবীন কর্মকর্তাসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লালমনিরহাটের জীবিত দুই ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল কাদের ভাষানীর বাড়িতে গিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, জাতি ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমরা সেই একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে তাদের বাড়িতে এসেছি।










