উন্নত চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীন দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে চলতি বছরের শুরু থেকেই এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে পারত মানুষ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৫ শতাংশ।
প্রথম দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরও কাজ শেষ না হওয়ায় আরো এক দফা সময় বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। বারবার মেয়াদ বাড়ানো এবং ব্যয়ের কিছু অপ্রাসঙ্গিক খাত তৈরি করায় এ প্রকল্পে ব্যয়ও বাড়ছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গত ২৬ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের সংশোধন নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার কার্যপত্র অর্থ বিভাগেও পাঠানো হয়েছে। কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, এ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। তবে সংশোধিত ডিপিপিতে আমরা এখনো রেজল্যুশন স্বাক্ষর করিনি। সংশোধিত ডিপিপির বিষয়ে নানা অবজারভেশন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটা সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে গার্বেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য আরো ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসাতে বলা হয়েছে। ফলে ব্যয় আরো বাড়তে পারে।
প্রথম দফায় বাড়ানো সময় শেষ হয়ে এলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪৫ শতাংশ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলমান করোনাসহ প্রকল্প পরিচালক এক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে এ প্রকল্পে বিদেশী অর্থায়নের ব্যাপার আছে, তাই কাজ শুরু হতেও দেরি হয়েছে। ব্যয়ের নতুন খাত হিসেবে বিজ্ঞাপন ও অডিও-ভিডিও প্রডাকশন অন্তর্ভুক্ত করা প্রসঙ্গে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়গুলো আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। তাই কী থাকবে আর কী থাকবে না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়, বিএসএমএমইউর সক্ষমতা আরো বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোবিলিয়ারি সেন্টার, চাইল্ড অ্যান্ড মাদার হেলথ কেয়ার সেন্টার, কার্ডিও অ্যান্ড সেরেব্রো ভাসকুলার সেন্টার, কিডনি ডিজিজেস সেন্টার, আইসিইউ এবং কেন্দ্রীয় ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি বিভাগ স্থাপনের জন্য ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি অনুমোদন করে একনেক। মোট ব্যয়ের মধ্যে কোরিয়া সরকারের প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৪৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। এছাড়া বিএসএমএমইউর নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ১৭৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
গত ২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কিছু বেশি সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম বলেন, শুধু এটা নয় পুরো স্বাস্থ্য খাত অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয় না। তাই ইচ্ছা করেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিলে করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে পারলেই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে। ব্যয় বাড়লেই কমিশন বাড়বে, তাই বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতরা ইচ্চাকৃতভাবে বাস্তবায়নে দেরি করে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে কোনো তদারকি নেই।










