পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই রেজিস্ট্রার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ১৭ দফা দাবিতে তারা রেজিস্ট্রার অফিসে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে করোনাকালে অর্ধেক জনবল নিয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিস, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কর্মকর্তাদের উচ্চতর স্কেল প্রদান, অটো পদোন্নতি ও শূন্যপদে বিভাগীয় প্রার্থীদের পদোন্নতি, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সব উচ্চতর পদের কর্মকর্তাদের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত, আপগ্রেডেশন/পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন, ৪ শতাংশ হারে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নবনিযুক্ত দুজনের আপগ্রেডেশনের শর্ত বিলুপ্ত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন বলেন, অনেক আগে আমাদের এসব দাবি উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু তিনি কালক্ষেপণ করে আমাদের দাবিগুলো মেনে নেননি। আমরা সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ২৫ জানুয়ারি উপাচার্য তার বাসভবনে আমাদের ডেকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিভিন্ন কমিটি করে দেন। আসলে এর মাধ্যমে আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঠেকিয়ে রাখছেন। আমাদের একটা দাবিও বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। উপাচার্য এ বিষয়ে আরো ২-৩ দিন সময়ে চেয়েছেন বলে রেজিস্ট্রার আমাদের জানান। গত দুদিনেও কোনো কার্যক্রম না দেখে আজ আমরা তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করি।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ উপাচার্যের মেয়াদ আগামী ৬ মার্চ শেষ হবে। পরবর্তী উপাচার্য আসার পরও আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আন্দোলনের আভাস পেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী। শুক্রবার গভীর রাতে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ এবং গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভের পর ক্যাম্পাসে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরপর কর্মকর্তারা তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিলে অবস্থার অবনতির কথা ভেবে উপাচার্য গোপনে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

কর্মকর্তাদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, সকালে কর্মকর্তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আমার অফিসে তালা দিয়েছেন। আমার অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমি ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।