বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকালীন ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ স্থগিতাদেশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকরা। আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: আব্দুস ছামাদ স্বাক্ষরিত পৃথক দু'টি বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানোনো হয়। একইসঙ্গে এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইনক্রিমেন্ট চালু করার দাবি জানিয়েছে ঢাবি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ এই সংগঠন।
শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রদানকৃত ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী অবস্থানকে চাঙা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে ও মেধাবীদের শিক্ষকতায় আসার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করবে। বিবৃতিতে প্রজ্ঞাপনটি পরিহার এবং শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট প্রদান বাতিলের সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
এদিকে ইউজিসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে নীল দলের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত পরিপত্রটি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বিষয়টি কলেজ শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট প্রদান সংক্রান্ত। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখার আদেশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালসমূহের রেজিস্ট্রার বরাবর পরিপত্র প্রেরণ করেছে। এ পদক্ষেপ বর্তমান সরকারের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অর্জিত বড় বড় কৃতিত্বকে ম্লান করে দিতে পারে। এ পদক্ষেপ শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে সরকার-বিরোধীদের হাতকে শক্তিশালী করার অপচেষ্টা কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য নীল দলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গগত, মেধাবীদের শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহী করে তুলতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পিএইচডি ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা শুরু হয়েছিল। গত ১৮ মে বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনে যা স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে এরইমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।










