টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদও হয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার গ্রীষ্মকালীন টমেটোর উচ্চ ফলন হয়েছে। আবাদও ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে সবজিটি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ১৩৮ হেক্টর জমিতে। কৃষিজমির পাশাপাশি বাড়ির আঙিনাতেও আবাদ হয়েছে টমেটো। বছরজুড়ে মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় চাষীরা বলছেন, টমেটো একটি লাভজনক ফসল। প্রতি বছর তারা টমেটো আবাদ করেন। এবার ফলন ভালো হয়েছে।

সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক রিপন মিয়া জানান, তারা দুই ভাই মিলে ২০ কানি (৩০ শতকে এক কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। আরো ১০ কানিতে চাষাবাদ করার জন্য প্রস্তুত করছেন। কানি প্রতি টমেটো চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়। যদি ভালো ফলন হয় তবে, খরচ বাদে কানিপ্রতি ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাভ হবে। টমেটো চাষে কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে ২০১২ থেকে তারা টমেটো চাষ করছেন।

একই গ্রামের আরেক কৃষক মো. মহিউদ্দিন জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর তিনি ১ কানি জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। আরো ৩ কানি জমি প্রস্তুত করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বেশ কয়েকটি জাতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে বারি-৪, ৮, ১১ ও মঙ্গল রাজা। এ বছর সদর উপজেলায় ৭০ হেক্টর, আশুগঞ্জে ৫, আখাউড়ায় ৩, নাসিরনগরে ২০, কসবায় ৫, নবীনগরে ১০, বিজয়নগরে ২২ ও সরাইলে ৩ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, সদর উপজেলায় প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালন টমেটো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে লাভজনক হওয়ায় এ বছর প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যেও উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, মাছিহাতা, বাসুদেব, নাটাই উত্তর, তালশহর পূর্ব, সুহিলপুর ও বুধল ইউনিয়নের কিছু গ্রামে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হচ্ছে। তবে রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ব্লকেই প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে। গ্রাফটিং করে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়। সে চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। গ্রীষ্মকালে তাপ সহনশীল জাতের টমেটোগুলো সাধারণত অধিক যত্ন ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। ভালো ফলন পেতে পলিথিন শেড ব্যবহারসহ মালচিং করতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুনসী তোফায়েল হোসেন জানান, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আবাদ হয়েছে ১৩৮ হেক্টরে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। তবে খরচ বেশি হলেও কৃষকদের লাভ বেশি হয়। ১২০-১৪০ কেজি দরে গ্রীষ্মকালীন টমেটো বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ১০ বছর ধরে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন জাতের টমেটো বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে।