দেশে আলুর চাহিদার বড় একটি অংশ আসে মুন্সিগঞ্জ থেকে। জেলায় এ বছর আলু উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ১১৯ টন, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৬৯ টন বেশি। উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের জন্য ৭৪টি হিমাগারের মধ্যে সচল রয়েছে ৫৮টি। এসব হিমাগারে ধারণক্ষমতা রয়েছে পাঁচ লাখ টন। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়িতেই অস্থায়ী মাচা তৈরি করে আলু সংরক্ষণ করছেন কৃষক। তবে প্রচণ্ড গরমে আলুতে পচন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।

চাষীরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও পোকার সংক্রমণ ছিল না এবার। সর্বোপরি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় এ বছর আলুর ফলন ও গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এ বছর আলু সংরক্ষণে হিমাগারে ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। যে পরিমাণ আলু এবার উৎপাদন হয়েছে হিমাগারে সে পরিমাণ জায়গা নেই। উৎপাদিত আলুর বেশির ভাগই হিমাগারে সংরক্ষণ করা যায়নি। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে হিমাগারগুলোয় গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন কৃষক। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে বাঁশের মাচায় আলু সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে অনেকে কম দামে আলু বিক্রিও করে দিচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ১১ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। জেলায় ৫৮টি হিমাগার সচল রয়েছে। এসব হিমাগারে ৫ লাখ ৪০ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা যায়। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬৭ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়ে গেছে। বাকি আলু স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়। উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬০ হাজার ১১৯ টন, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার ৬৯ টন বেশি। উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে জেলার ৭৪টির মধ্যে সচল রয়েছে ৫৮টি হিমাগার। এসব হিমাগারে ধারণক্ষমতা রয়েছে পাঁচ লাখ টন। এর মধ্যে আবার জেলার বাইরে থেকে ২৫ শতাংশ আলু সংরক্ষণ করা হয় মুন্সিগঞ্জের হিমাগারগুলোয়। সে হিসাবে জেলায় উৎপাদিত আলুর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ টন হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পেরেছেন কৃষক। বাকি ৫ লাখ ৬০ হাজার টন আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করা যায়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার ৩৪৬ হেক্টর। অর্জন হয় ৩৪ হাজার ৫৫ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর।

কৃষক ইমরান মাতবর বলেন, ‘হিমাগারে আলু উত্তোলনের আগেই কোটা বিক্রি হয়ে যায়। বড় বড় ব্যবসায়ীরা আগেই হিমাগারের কোটা কিনে ফেলেন। ওইসব কোটা বেশি দামে আমাদের কিনতে হয়। এতে আলু সংরক্ষণে আরো বেশি টাকা গুনতে হয়, যা সব কৃষকের পক্ষে সম্ভব হয় না।’

সিরাজদীখান উপজেলার আরেক চাষী আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘হিমাগারে ঘুস দিয়ে কিছু আলু রেখেছি। বাকি দুই হাজার মণ আলু বাড়িতে গোলায় রেখেছি। এবার যে গরম পড়ছে, তাতে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

উপজেলার লতব্দী এলাকার কৃষক শামীম হোসেন বলেন, ‘২৪৫ শতক জমিতে রোপণ করা ও কেনা মিলিয়ে ৭০০ বস্তা আলুর মধ্যে ৫০০ বস্তা হিমাগারে রাখতে পেরেছি।’

হিমাগারে কোটা রেখেছেন এমন একজন ব্যবসায়ী শুভ সাহা বলেন, ‘আমি প্রতি বছর কোটা কিনে রাখি। পড়তা পড়লে আলু রাখি, না হয় কোটা বিক্রি করে দিই।’

আগে কেন কোটা রাখেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আগে কোটা রাখলে হিমাগারগুলো একসঙ্গে অগ্রিম টাকা পেয়ে যায়। আমরাও কিছু টাকা কমে পাই। এজন্যই আগে কোটা রাখা হয়।’