এর অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে গতকাল সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। আনা হয় বুলডোজার, শুরু হয় মাইকিং।
তবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই তাদের দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম বিকাল পর্যন্ত চলে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ছয় শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। তবে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা আরো কিছু সময় চেয়ে আবেদন করেন। সে অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা দোকানপাট সরিয়ে নেন। সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এর আগে ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন।
উচ্ছেদের আগে নিজ দায়িত্বে সরে যাওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করছেন।
সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই পয়েন্টে পর্যটকদের কাছে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এখন মন্ত্রীর সহানুভূতিশীল দৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন।
শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এর কষ্ট ও বেদনা আমাদের বুকেই থেকে যাচ্ছে। ঈদের ব্যবসার আশায় আমরা অনেকেই ঋণ করে দোকানে পুঁজি দিয়েছিলাম। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
বার্মিজ পণ্যের দোকানদার মুজিব উল্লাহ বলেন, ‘রমজানজুড়ে আমরা ঈদের বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। এখন সেই পণ্য নিয়েই বিপাকে পড়েছি। সামনে কীভাবে চলব সেটাও বুঝতে পারছি না।’
প্রশাসনের এ উদ্যোগে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।










