নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পুলিশের বাধায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমাম হাসান আবু চানসহ চার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটক অন্য তিনজন হলেন দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আতাউর রহমান ফরিদ, দুর্গাপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আবু সিদ্দিক রুক্কু ও যুবদল নেতা শাহ আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গতকাল সকাল ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও  বিএনপির চার নেতাকে আটক করে। 

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলম ভূইয়া বলেন, ‘‌গতকাল সকাল ১০টার দিকে আমরা উপজেলার কাচারিমোড় থেকে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে চাইলে পুলিশ ব্যানার নিয়ে যেতে বাধা দেয়। পরে আমরা সেখান থেকে স্থান ত্যাগ করার সময় পুলিশ ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আমাদের ধাওয়া দেয় ও গুলি  ছোড়ে। এ সময় আমাদের চার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শিশির নামে এক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।’   

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বিএনপিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেয়নি পুলিশ। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবে বিএনপির আন্দোলন দমানো যাবে না।’

নেত্রকোনার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (ডিএসবি) লুৎফর রহমান জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা শহীদ বেদিতে যাওয়ার সময় পুলিশকে দেখেই গালাগাল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চার রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বর্তমানে পরস্থিতি স্বাভাবিক। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।