যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল সকালে দক্ষিণের এ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে চারদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এর আগে ২৬ ডিসেম্বর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৭ ডিসেম্বর ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। গতকাল ভোর ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। সকালে সূর্য উঠলেও উষ্ণতা ছড়াতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে রোদের দেখা মেলে। তবে শীতের আবহ ছিল। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষকে পথ চলতে দেখা গেছে। শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। খুব সকালে প্রতিদিনের মতো জমিতে চাষীদের দেখা মেলেনি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে শ্রমজীবীদের।

চাঁচড়া এলাকার রিকশাচালক রহিম আলী বলেন, ‘শীতে সকালে ও রাতে একেবারেই যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বেলা একটু বাড়লে লোকজন বাইরে আসছে। কিন্তু যাত্রী কমে যাওয়ায় রোজগারও কমেছে।’

এদিকে গরম কাপড়েও শীত নিবারণ করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামে-শহরে সবখানে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। শহরের রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, অফিস-আদালতের বারান্দায় রাত কাটানো মানুষগুলো তাকিয়ে আছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের দিকে। প্রতিবারের মতো হয়তো সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় তাদের গায়ে চড়বে গরম কাপড় বা কম্বল।