বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে কাঠ টানার সময় একটি পোষা হাতি আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে হাতিটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে তারা। গতকাল শিলঝিরি থেকে হাতিটি আটক করা হয়। এ সময় একজন মাহুতকেও আটক করা হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশ থেকে জব্দ করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ কাঠ।

স্থানীয়রা জানায়, গত তিন-চার মাস ধরে পালং খাল, শিলঝিরি ও ছোট শিলঝিরির বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক বনের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। কাটা গাছগুলো ভাড়া করা হাতি দিয়ে টেনে ওই খাল ও ঝিরিগুলোয় মজুদ রাখা হয়। পরে গাছগুলো পাচার করতে পাহাড় কেটে রাস্তা করা হয়।

গতকাল সকালে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে অভিযানে অংশ নেয় লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ টহল বাহিনী। এর আগে শিলঝরি এলাকায় এক মাহুতসহ গাছ টানা একটি পোষা হাতি আটক করেন স্থানীয়রা।

পাচারের জন্য দুর্লভ প্রজাতির বুনো গাছও কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডলুছড়ি রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা মো. তানভীর খলিল। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মজুদ রাখা গাছের পরিমাণ কমবেশি দুই হাজার ঘনফুট হতে পারে। জব্দ করা গাছগুলোর মধ্যে গর্জন, পাটনা, গামারি, কড়ই, রং গামার, চাক্কা কড়ই, লালি ও চাপালিশ রয়েছে।’

ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আটক হাতি ও মাহুতকে লামা বন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলাল বলেন, ‘হাতিটিকে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে হাতিটিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে।’