প্রতিবন্ধীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর কর্মশালার আয়োজন করেছে সাইটসেভার্স এবং ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)। আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ সময় আলোচকরা প্রতিবন্ধীদের দক্ষ মানবশক্তিতে রূপান্তর করতে কী কী ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করা উচিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
কর্মশালায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি) ও যুগ্মসচিব মো. আজমুল হক, সাইটসেভার্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রোজিনা রোজারিও, ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সিডিডির (সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এ এইচ এম নোমান আহমেদ, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া রিজিওনাল ডিরেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন ডিজঅ্যাবিলিটির (সিএসআইডি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খন্দকার জহিরুল আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কীনোট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইউএনডিপিতে কর্মরত আমিনুল আরেফিন। আলোচনায় ৮ টি খাতকে চিহ্নিত করা হয়। খাতগুলো হলো- লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যালাউয়েন্স; ইনক্লুসিভ এডুকেশন; অ্যাক্সেসিবিলিটি, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড টিভিইটি; ডিজিটাল ডিভাইড; ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন; আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স; ডাটা ইন্টেরোপেরাবিলিটি অ্যান্ড জিআরএস; অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন। এ আটটি ক্ষেত্র নিয়ে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে ওয়ার্কশপ করানো হয় এবং তা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে তা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে সেখানে কাজে লাগানো হবে বলে আয়োজকরা জানান।
সাইটসেভার্স ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রোজিনা রোজারিও বলেন, ‘আমাদের আজকের আয়োজন প্রতিবন্ধীদের আরো কীভাবে উন্নত করা যায় এবং কীভাবে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা যায় তা নিয়ে। আমাদের যে সামাজিক বেষ্টনী কাঠামো রয়েছে সেটাকে আরো কীভাবে কার্যকর করা যায়। সাইটসেভার্স এবং ইউএনডিপি বিগত ৫ বছর ধরে একটি বিষয়ের ওপর কাজ করছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাঠামোতে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী আইন ২০১৩ এবং বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীদের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সেখানে যেন প্রতিবন্ধীদের বিভিন্নভাবে যুক্ত করা হয়। যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা। তারা নানাভাবে যোগ্য। অনেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে কাজ করছে। তবুও তারা নানাভাবে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা থেকে পিছিয়ে আছে। আমাদের সবাইকে সে জায়গায় কাজ করতে হবে। মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা যাতে নিজেদের যোগ্য স্থান পেতে পারে।’
আমিনুল আরেফিন বলেন, ‘বর্তমানে যে সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা আছে তা ২০১৫-২০২৫ পর্যন্ত। আমাদের পরিকল্পনায় আছে এ জাতিকে একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল উপহার দেয়া। সেটা যেন সঠিকভাবে কার্যকরী হতে পারে সেজন্য অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা। ’
এ সময় প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ ভাতা ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার ব্যাপারে বলা হয়। সেখানে বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলোর ওপর জোর দেয়া হয়। এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আরো সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপির এসএম মনজুর রশিদ এবং কর্মশালার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন এএইচএম নোমান খান।









