মৌলভীবাজারের চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনকারীরা। শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে শ্রীমঙ্গলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সঙ্গে বাগানের পঞ্চায়েত প্রধানদের বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আজ আন্দোলনের ১৭তম দিনের কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। পাশাপাশি মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন তারা।

আজ সকালে শ্রীমঙ্গলের খেজুরীছড়া চা বাগানে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকদের সন্তানরা। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ বহনের সুবিধার্থে মা-বাবার দারির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির পক্ষে মত তুলে ধরেন তারা। বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কয়েকটি চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরে যান। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কিছুক্ষণ রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শহরে যানজট সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখার অনেক বাগানে মিছিল করেন আন্দোলনকারী চা শ্রমিকরা। রাস্তা বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে তারা বিক্ষোভ করেন।

এদিকে আজও চলমান অসন্তোষ নিরসনে বিভিন্ন বাগানের পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে ফের বৈঠক করেন বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম। বৈঠকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানালে তারা প্রত্যাখ্যান করে।

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান নুর মোহাম্মদ বলেন, মিটিংয়ের নামে শুধু সময় নষ্ট হয়েছে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চলমান আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আপেক্ষায় রয়েছে চা শ্রমিকরা। তিনি যা বলবেন শ্রমিকরা তাই শুনবে।

বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকদের বৈধ প্রতিনিধি নয় এমন একটি পক্ষের ইন্ধনের কারণে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিচ্ছেন না। তবে বিষয়টি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।