রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এসব দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত এ বাহিনীর সদস্যরা। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কমপক্ষে ৩০০ পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ‘পুলিশ অধঃস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী’র ব্যানারে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রধান কার্যালয়ে নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।

পুলিশের দেয়া ১১ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো পুলিশ হত্যাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পরিবারের একজনের সরকারি চাকরি নিশ্চিত করা, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পুলিশ বাহিনীর প্রচলিত আইন ও পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল সংস্কার করে যুগোপযোগী এবং কার্যকরী করা, পুলিশের নিয়োগ বিধিমালা বিশেষত সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ পিএসসির অধীনে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের চেইন অব কমান্ড যদি যথাযথভাবে সে সময় থাকত, তাহলে এত প্রাণহানি হতো না। এ কারণে পুলিশের চেইন অব কমান্ড নতুনভাবে গঠন করা হচ্ছে। চেইন অব কমান্ড হচ্ছে, পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। চট্টগ্রামের ১৬টি থানার মধ্যে ১২টিতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। থানার সংস্কার করতে হবে। পুলিশ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চায়। পুলিশ মরতে চায় দেশের জন্য বিজয়ীর বেশে। পুলিশ সদস্যরা যেসব দাবি জানিয়েছেন তার প্রত্যেকটি দাবি যৌক্তিক। আলাদা পুলিশ কমিশনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। আমরা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে কাজ করতে চাই। পুলিশ আগেও নিরাপত্তাহীন ছিল, এখনো আছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্য ড. আনোয়ার বলেন, ‘পদধারী কর্মকর্তাদের ইচ্ছায় আমাদের কাজ করতে হয়েছে। পুলিশ জনগণের সেবক, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী। আমরা ডিপার্টমেন্টের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আজকে ঊর্ধ্বতনদের হুকুম পালন করতে গিয়ে তার খেসারত দিতে হয়েছে। বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাংচুর চালিয়ে সহকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।’ পুলিশ কমিশন গঠনসহ তাদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দামপাড়া পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশের নায়েক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে জনগণের মুখোমুখি হতে চাই না।’ এখনো যেসব পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।