বেসরকারি পদ্মা ব্যাংকে (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) ১৩টি মেয়াদি আমানতে মোট ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা জমা রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। ব্যাংকটি থেকে এ অর্থ ফেরত নিতে চাইছে সংস্থাটি। যদিও বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এ অর্থ ফেরত দিতে পারছে না পদ্মা ব্যাংক।
পরিচালনা বোর্ডের পরামর্শে এ অর্থ ফেরত পেতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি দিয়েছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে দেয়া চিঠিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বলেছে, পদ্মা ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির পাঁচটি শাখায় বিভিন্ন শিরোনামে ১৩টি স্থায়ী আমানত হিসেবে ২৫ কোটি ৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৬০ টাকা রাখা হয়। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ টাকা জমা রাখা হয়। গত বছরের শেষে স্থায়ী আমানত হিসাবগুলোয় মুনাফাসহ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫২৪ টাকায়। বেশ কিছুদিন আগেই আমানতগুলোর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। তার পরও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাওনা পরিশোধ করছে না পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২০ সালের মার্চে পদ্মা ব্যাংকে চিঠি দিয়ে স্থায়ী আমানতের এসব অর্থ ফেরত চেয়েছিল ফাউন্ডেশন। তবে অর্থ ফেরত না দিয়ে এর জবাবে একই বছরের ২০ অক্টোবর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাংকটির অর্থ ফেরত দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে এবং ২০২১ সাল থেকে তা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেয়া শুরু করবে। কিন্তু ২০২১ সালের মে মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অর্থ ফেরত দেয়নি পদ্মা ব্যাংক। এরপর ২০২১ সালের জুন ও জুলাইয়ে পৃথক দুটি চিঠি দিয়ে আবারো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়। এবারো পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানায়, ২০২২ সালের শুরুতেই এ অর্থ ফেরত দেয়া হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারি শেষ হয়ে ফেব্রুয়ারির কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও অর্থ ফেরত দেয়ার কোনো প্রক্রিয়া শুরু করেনি পদ্মা ব্যাংক। বিষয়টি বিপাকে ফেলে দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। এসব হিসাবে ফাউন্ডেশনের পেনশন তহবিলসহ জরুরি বেশকিছু তহবিলের অর্থ রাখা হয়েছে। এ অর্থ হাতে না পেয়ে সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) মো. আফজাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না পদ্মা ব্যাংক। আমরা বারবার চিঠি দিচ্ছি। তারাও বারবার অর্থ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ফেরত দিচ্ছেন না। ২০২১ সালের শুরুতে অর্থ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা একটি টাকাও ফেরত দেননি। বিষয়টিকে তারা কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না। তাই এবার আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি লিখেছি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড থেকে এসব আমানত তুলে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থ তুলে নেয়ার সব ধরনের চেষ্টাই চালু রয়েছে। ফাউন্ডেশনের পেনশন তহবিলের টাকাও এসব আমানতে রয়েছে। কিন্তু টাকা থাকলেও এখন পেনশনারদের অর্থ সময়মতো দিতে না পারার পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য আমরা বারবার তাদের সঙ্গে বসছি। কিন্তু অর্থ দেয়ার জন্য কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ আমরা দেখছি না।










