প্রশাসনিক প্রধানের পদগুলোয় শিক্ষকদের পরিবর্তে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কর্মকর্তারা। ৯ জুলাই থেকে টানা কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারী কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, কন্ট্রোলার ও বিভিন্ন বিভাগীয় পরিচালকসহ সব প্রশাসনিক পদে সিনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়নের বিধান রয়েছে। তবে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ সেটি মানছে না। ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রতিটি প্রশাসনিক প্রধানের পদ দখল করে আছেন।
তারা জানান, গত ২০২৪ সালের ১ জুলাই ইউজিসির পাঠানো এক এক চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বর্ণিত রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্বে শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বা সামরিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্রবিশেষ কলেজের শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যাবলি সম্পাদনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে এমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পদে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
হাবিপ্রবি অফিসার্স ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুব-উল-হাসান জানান, ইউজিসির এ নির্দেশনা বারবার উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের পদগুলোয় শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তাদের অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনাকেও মানা হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৮ জুলাই রাতের আঁধারে প্রফেসর ড. আবু হাসানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আরো এক দফা অবিচার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শামসুজ্জোহা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘পদগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের এ কথা ঠিক। কিন্তু প্রশাসন চালাতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশেষ করে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় তার পছন্দমতো ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী নীতিমালা অনুসরণ করে কর্মকর্তাদের পদগুলোয় নিয়োগ দিয়ে তা রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনের বিধান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’










