বাজারে পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। গত বছরের এ সময় বাজারে হিমসাগর আম বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে। গতকাল সাতক্ষীরার আড়তগুলোয় হিমসাগরের দাম ছিল প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে ল্যাংড়া আমের দামও মণপ্রতি গত বছরের তুলনায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে।
পাইকার ও আড়তদাররা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমের দাম নিম্নমুখী। ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা একই সময় প্রতিযোগিতা করে বাজারে আম ওঠানোর কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে চলতি মৌসুমে অনেক বাগানের আম বিক্রি হয়নি। আমবাগান বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষীরা।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের রাজার বাগান এলাকার আম ব্যবসায়ী মুজিবর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৪ লাখ টাকা দিয়ে তিনটি আমবাগান কিনেছেন তিনি। তিনটি বাগানে এ পর্যন্ত গোপালভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ৮০ শতাংশ বিক্রি করতে পেরেছেন। কিন্তু বাজারে আমের দাম কম থাকায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মুজিবর রহমান জানান, গত বছর প্রতি মণ হিমসাগর আম ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এ বছর হিমসাগরের দাম কমে ১ হাজার ৪০০ টাকায় নেমে গেছে। একইভাবে ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। গত বছর ল্যাংড়া বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রথম পর্যায়ে গোপালভোগ আমের দামটা কিছু ভালো পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। প্রতি মণ গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে।
ফরিদপুর জেলা থেকে আগত পাইকারি আম ব্যবসায়ী মোসলেম আলী জানান, গত এক দশকের ব্যবধানে আমের বাজার খুবই মন্দা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে প্রতি মণ হিমসাগর আম ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে তা ঢাকায় বিক্রি করছি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ উঠিয়ে তেমন লাভ থাকছে না। তবে গত মৌসুমে এ সময় ঢাকায় হিমসাগর আমের প্রতি মণের দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরার আমবাগান মালিক মাহবুবুর রহমান জানান, তার বাগানে হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০ থেকে ৩০০টি আমগাছ আছে। গত বছরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় তার বাগান বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে বাগান বিক্রি করতে না পেরে নিজেই আম বাজারে ওঠাচ্ছেন। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী আমের দাম পাচ্ছেন না তিনি।
সাতক্ষীরার জেলা সদরের সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বাজারের আড়তদার কামরুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের আমবাগান মালিক বা ব্যাপারীরা একই সঙ্গে বাজারে আম ওঠানোর কারণে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য বছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সাতক্ষীরা থেকে আম কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর বাইরের ব্যাপারী তেমন আসছেন না। চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় আমের দাম নিম্নমুখী।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছে। ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার টন।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার অন্তত ৩০ শতাংশ আমবাগান মালিক বাগান বিক্রি করতে পারেননি। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমবাগান। তাই অনেক ব্যবসায়ী ও পাইকার ঝুঁকি এড়াতে বাগান ক্রয় করেননি।










