ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বন্যার পানি নামতে শুরু করায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতি। বিশেষ করে বাঁধ ভাঙা এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু কিছু রাস্তা প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছে। এছাড়া উপজেলায় অন্তত ২৪৭টি পুকুরে পানি ঢুকে ৮০ লাখ টাকারও বেশি মাছ ভেসে গেছে। এখন এলজিইডি ও মত্স্য বিভাগ থেকে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দেরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফুলগাজী বাজার থেকে দেড়পাড়া সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচল অনুপোযোগী হওয়ায় এ সড়কে এখন যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ ঘরিয়া ও দরবারপুর সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জল বনিক জানান, ফুলগাজীতে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ২৪৭টি পুকুর ভেসে গেছে। এসব পুকুরে পেশাদার ও অপেশাদার পর্যায়ে মাছ চাষ হত। বন্যার পানিতে ঢুবে যাওয়া পুকুরে থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফুলগাজী উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ জানান, বন্যার পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি। বেশ কয়েকটি রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। কয়েকটি রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিগগিরই এসব সড়কের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়, গত সোমবার ভোর রাতে ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া এলাকার রতন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ও সকাল ৭ টার দিকে সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর এলাকার সেকান্তর মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে বাঁধ ভাঙ্গন দেখা দেয়। সকাল ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের দেড়পাড়ায় আরেকটি বাঁধ পানিতে ভেসে যায়। ফলে দেড়পাড়া, নিলক্ষী, উত্তর নিলখী, গাবতলা, মনতলা, গোসাইপুর, নোয়াপুর, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর ও বৈরাগপুর, দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া এলাকায় নদীর পানি প্লাবিত হয়। এছাড়া পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম অলকা গ্রামের একটি স্থানে বাঁধ ভেঙে আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে।










