ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নির্বিঘ্ন করতে বছরের বিভিন্ন সময় সাগর ও নদ-নদীতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। সর্বশেষ গত ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এবার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে গতকাল মধ্যরাত থেকে জাটকা ধরায় আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদী ও উপকূলীয় সাগর অঞ্চলে এ নিষেধাজ্ঞা একযোগে বলবৎ থাকবে।
মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের জাটকা ধরা, বিক্রি, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে এক-দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। বরিশাল বিভাগের মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কীর্তনখোলা, কালাবদর, আড়িয়ালখাঁ, বিষখালী ও বলেশ্বর নদে ইলিশের প্রধান আবাসস্থল হওয়ায় এখানকার জেলেদের ওপর বিশেষ নজর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে নদীতে টহল ও অভিযান চালাবে। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদ-নদীগুলোতে কঠোর নজরদারি থাকবে।
অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জীবনধারা টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে। এ সময়ে বরিশালের নিবন্ধিত ৪ লাখ ২২ হাজার জেলেকে চার মাস ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেয়া হবে। কর্মসূচির আওতায় মাসে ৪০ কেজি করে চার মাস চাল দেয়া হবে।
মেহেন্দিগঞ্জের জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি। কারণ এতে ইলিশ বাড়ে। তবে সহায়তা নিয়মিত পেলে জেলেরা আরো সহযোগিতা করবে।’
মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এর টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে জাটকা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর সংযোগস্থল ভোলা, চরফ্যাশন, মির্জাগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মাছ ধরায় ব্যবহৃত নিষিদ্ধ জাল ও ইঞ্জিনচালিত নৌযান আটকেও অভিযান চলবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘বরিশাল অঞ্চল ইলিশ উৎপাদনে দেশের শীর্ষে। আমরা চাই, সবাই জাটকা রক্ষায় সহযোগিতা করুক। এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরো বেশি ইলিশ উৎপাদনের নিশ্চয়তা দেবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশালসহ পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনার নদ-নদীতে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে টহল জোরদার করবে।’
২০০৩ সাল থেকে সরকার ধাপে ধাপে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে বরিশাল বিভাগের নদ-নদী থেকে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় খাদ্যসহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কিছু জেলে মাছ শিকারে নামেন। এবার নদীতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে।’










