তিনি বলেন, ‘ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যয় কমানো ও বিনিয়োগের পথে যেকোনো বাধা দূর করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’ গতকাল রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মিৎসুবিশি করপোরেশনের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজে ২৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
আয়োজনে আমির খসরু বলেন, ‘মিৎসুবিশি করপোরেশনের মতো একটি ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গাড়ি উৎপাদন শুরু হওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ যৌথ উদ্যোগ কেবল একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নয়, এটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য মূল্য সংযোজন করবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত বিকাশের নতুন সুযোগ পাবে। বিশেষ করে স্থানীয় শিল্পগুলো এ কারখানায় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের সুযোগ পাবে।’
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অটোমোবাইল শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও রফতানিকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগকে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘মিৎসুবিশির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিকেও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। এছাড়া র্যানকন হোল্ডিংস লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোমো রউফ চৌধুরী, মিৎসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিভিশন সিওও হিরোয়ুকি এগামি, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ খাতসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা জানান, এ কৌশলগত বিনিয়োগের ফলে দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, ডিস্ট্রিবিউশন ও সাপ্লাই চেইন আরো শক্তিশালী হবে এবং উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে, যা সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।










