ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা (এন-৮) জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার অংশ হিসেবে বরিশাল শহর অতিক্রমকারী অংশের অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণে গতকাল অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বেশিরভাগ অংশীজনই শহরের বাইরে দিয়ে সাড়ে ১১ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভে অনুযায়ী, চার লেন মহাসড়কটি নগরীর ভেতর দিয়ে নির্মাণের পরিবর্তে বাইপাস হলে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে আসবে।
জানা গেছে, নগরীর বাইরে গড়িয়ারপার থেকে দপদপিয়া সেতুর টোলঘরের ৫০০ মিটার দূরে এ বাইপাস সড়ক করার প্রস্তাব উঠে এসেছে।
এজন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী অর্থবছরে এ বাইপাস সড়ক হতে পারে।
অংশীজন সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল।
সভায় বরিশালের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজনরা উপস্থিত থেকে মত দিয়েছেন।
সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার এ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য নগরীর বাইরে বাইপাস সড়ক করার পক্ষে মত দেন।
তিনি বলেন, এটি হলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে থাকবে না, পরিবেশও দূষণ হবে না।
তবে এই মহাসড়ক করতে হলে শতবছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, চার লেন মহাসড়কটি নগরীর ভেতর দিয়ে নির্মিত হলে ব্যয় বেড়ে যাবে।
একই মত দিয়েছেন নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আ. রহিম বলেন, মহাসড়কটি বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে ৪০০ মিটার দূরে।
কিন্তু ৮০০ মিটারের দূরত্ব রেখে এটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
উন্নয়ন সংস্থা আভাসের পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, সড়ক এমন হতে হবে যাতে গাড়ির চাকা নষ্ট না হয়।
পায়রা সেতুর মতো এ সড়কও দৃষ্টিনন্দন হওয়া দরকার।
সড়কের দুই পাশে দূরত্ব রেখে গাছের চারা রোপণ করা প্রয়োজন।
অংশীজনদের এমন মতামতের জবাবে আবু হেনা বলেন, রেলওয়ে, বিমান, সিটি করপোরেশন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সড়কটি নির্মাণ করা হবে।
কেননা, বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নির্দেশনা হলো, তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা।
সবার অংশীদারের ভিত্তিতেই চার লেন এবং বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার আরিফ হোসেন জানান,
বরিশাল অংশে নগরীর মধ্যে চার লেন হবে নাকি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে তা নিয়ে অংশীজনরা মতামত নিয়েছেন।
সভায় অধিকাংশ অংশীজন বাইপাস সড়কের ওপর জোর দিয়েছেন।
৯৯ ভাগ মানুষই চান বিকল্প অ্যালাইনমেন্ট।
এতে আর্থিকভাবে যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি নগরীর ওপর চাপ কমবে।
এক্ষেত্রে কিছু স্থাপনা অপসারণ করার দরকার হলেও বেশির ভাগই ফাঁকা জমি।
এর আগে সড়ক বিভাগের সার্ভে তথ্যও তুলে ধরা হয়।
সার্ভে অনুযায়ী, নগরীর
ভেতরের বিদ্যমান সড়ককে চার লেনে উন্নীত করলে ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
কিন্তু নগরীর বাইরে দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হলে ব্যয় হবে ৮১৫ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত এ বাইপাস সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার।
এটি নগরীর গড়িয়ারপাড় থেকে সোনলা বাজার, নবগাম রোড, টিয়াখালী, রুইয়া, রূপাতলী পাম্প থেকে দপদপিয়া সেতুর টোলঘর থেকে দক্ষিণে ৫০০ মিটার দূর দিয়ে যাবে।
এজন্য কীর্তনখোলায় একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
ফলে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে ১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
সভায় উপস্থিত সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামিমুজ্জামান জানান, বরিশালে যাতে বাইপাস সড়ক হয় সে লক্ষ্যে ২-৩ বছর আগে থেকে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আশা করেন, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলে আগামী বছর যেকোনো সময় সড়কের কাজ শুরু হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সওজ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ, রোড জিজাইন ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী বুলবুল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন প্রমুখ।










