মাদারীপুরের শিবচর পৌর শহরে নির্মাণাধীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্লান্ট থেকে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে জৈব সার ও জ্বালানি তেল। সরকারি অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় এবং শিবচর পৌরসভা ও উপজেলার নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ প্লান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছরেই এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই প্রকল্প চালু হলে বদলে যাবে শিবচর পৌর শহরের চিত্র—শহর হয়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্লান্ট থেকে উৎপাদিত জৈব সার ও জ্বালানি তেল স্থানীয়রাই কিনতে পারবেন তুলনামূলক কম দামে। এতে প্রতি বছর সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকা।
মাদারীপুরের শিবচর পৌর শহরের চরশ্যামাইল গ্রামে ৩ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। পৌর শহরের ১২টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন যেসব আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে, সেগুলো পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই প্লান্টে এনে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এরপর সেই বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার। আর প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য থেকে সংগ্রহ করা হবে জ্বালানি তেল। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টার্নের ম্যানেজার মো. ফকরুল ইসলাম।
মাদারীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার শামসুল ইসলাম জানান, নির্মাণকাজ শেষ করে প্লান্টটি চালু করতে পারলেই শিবচরের চিত্র বদলে যাবে। তখন এসব বর্জ্য আর আপদ নয়, বরং সম্পদে পরিণত হবে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হবে জৈব সার ও জ্বালানি, যা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করবে অনেক মানুষের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দারাও আশা করছেন, প্লান্ট থেকে উৎপাদিত জৈব সার কম দামে সংগ্রহ করতে পারবেন তারা। ফলে সহজ হবে চাষাবাদ, ফসল উৎপাদন বাড়বে, কমবে খরচও।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ইন্টেগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হবে চলতি বছরেই।










