চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু হয় ২০২২ সালে। ওই বছর প্রায় ৫৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। এর পরের দুই বছরে আবাদ হয়েছে ২৬০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর ৪৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে উপজেলায় মৌসুমি এ ফলটির আবাদ বেড়েছে প্রায় আট গুণ।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর ৪৮০ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ২০০ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার দর ৫০ কোটি টাকা। তবে চাষীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, মিরসরাইয়ে চলতি বছর প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মিরসরাইয়ে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক কৃষক। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে এসে জমি ইজারা নিয়ে ইছাখালী চরে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ওই বছর প্রায় ৫৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালে ১২ হেক্টর বেড়ে আবাদ দাঁড়ায় ৭০ হেক্টরে। ২০২৪ সালে আরো ১২০ হেক্টর বেড়ে আবাদ হয় ১৯০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর উপজেলার ইছাখালী, মায়ানি, মঘাদিয়া ও সাহেরখালী ইউনিয়নে ৪৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে যারা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করছেন, তাদের সবার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। আগে সুবর্ণচর এলাকায় ব্যাপকহারে তরমুজ চাষ হলেও বর্তমানে ওই উপজেলার আবহওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী নয়। এজন্য চাষীরা মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে চলে আসছেন। এ অঞ্চলের কৃষক আমন ধান কাটার পর তরমুজ চাষীদের কাছে জমি ইজারা দিচ্ছেন।

সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া গ্রামের সাইফুল্লা ওরফে সোহেল জানান, সুবর্ণচর উপজেলার শতাধিক চাষী মিরসরাইয়ের ইছাখালী, সাহেরখালী, মঘাদিয়া ও মায়ানি ইউনিয়নে তরমুজ চাষ করছেন। তিন মাস আগে প্রতি কানি ২২ হাজার টাকা দরে ১০ কানি জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি।

মায়ানি ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানি গ্রামের তরমুজ চাষী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ১০ জন মিলে ৩০ কানি জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। মিরসরাইয়ের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। তাই সুবর্ণচরের চাষী এখানে চলে আসছেন।’

এদিকে কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যের সঙ্গে চাষীদের দেয়া তথ্যের কিছুটা অমিল রয়েছে। চাষীরা বলছেন, চলতি বছর প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে কৃষি অধিদপ্তর বলছে, চাষ হয়েছে মাত্র ৪৮০ হেক্টরে। চাষীদের দাবি কৃষি কর্মকর্তারা সরজমিন না এসে ইচ্ছামতো একটি সংখ্যা দিয়ে দায় সারেন।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিরসরাইয়ে চলতি বছর ৪৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। চলতি বছর নতুন করে দুই ইউনিয়নে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষীরা। চরাঞ্চল তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ধীরে ধীরে আবাদ বাড়ছে। ভবিষ্যতে তরমুজ চাষ আরো বাড়বে।’