বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এএইচএম গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, ‘মহাপরিকল্পনায় পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানের সমন্বয়ে ৫৩টি ক্লাস্টার তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস্টার হলো বান্দরবান।’

গতকাল সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সরকারি কমিশনার (ভূমি) এবং হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব। বান্দরবানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যটন পরিষদের তৃতীয় সভায় পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশনা অনুযায়ী অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পর্যটন উন্নয়ন কার্যক্রমকে সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। পর্যটন মহাপরিকল্পনাটি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আগামী ২৫ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নির্দেশ করে। মহাপরিকল্পনাটি ২০৪০ সাল নাগাদ ১০ মিলিয়ন পর্যটক আগমনের মাধ্যমে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়। এটি বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০৪১ অর্জন এবং ২০২৩ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।’

এএইচএম গোলাম কিবরিয়া জানান, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানের সমন্বয়ে ৫৩টি ক্লাস্টার ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস্টার হচ্ছে বান্দরবান।

 আবার বান্দরবান ক্লাস্টারে ৬৪টি পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। যার মধ্যে ৩৪টি পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ২১টি স্থান প্রাকৃতিক পর্যটনকে বহন করে, সাতটি স্থান স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং একটি স্থান রিভারাইন ট্যুরিজম সম্পর্কিত। এ ক্লাস্টারটি বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত।

তিনি আরো জানান, পর্যটন মহাপরিকল্পনায় বান্দরবান ক্লাস্টারের জন্য ২৬টি পৃথক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কেবল কার নির্মাণ, বাঞ্জি জাম্পিং, প্যার গন্ডাইডিং, সাইনেজ, ইকো রিসোর্ট, কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বনাঞ্চল সংরক্ষণ, পর্যটক ধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রচারণা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উৎসবের প্রচারণা, হাইকিং এবং ট্র্যাকিং রুটের উন্নয়ন, ঝরনাধারে কটেজ নির্মাণ, বন্যপ্রাণী দর্শনের সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণ, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, খাল সুরক্ষা, খালের পাশে পায়ে হাঁটার রাস্তা নির্মাণ, নৌকা ভ্রমণ সুবিধাদি তৈরি, ঝরনার পাশে দৃষ্টিনন্দন ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন।

এছাড়া সভায় জেলার পর্যটন খাতের নানা সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতির বিষয় তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল বাচ্চুসহ ব্যবসায়ী নেতারা।