যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। এ এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরিহর নদ-নদী দিয়ে। তবে পলি পড়ে নদ-নদীগুলো নাব্য হারিয়েছে। এসব নদ-নদী দিয়ে এখন ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ কারণে পানি আটকা পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্য ফিরিয়ে আনতে এবার শুরু হচ্ছে ভবদহ অঞ্চলের পাঁচটি নদ-নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ। আজ ভবদহের ২১ ভেল্ট এলাকা থেকে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু করবে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা অবসানের সম্ভাবনা দেখছে স্থানীয় জনগণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ চার দশক ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার এ অঞ্চলের মানুষের জীবন। গেল বর্ষা মৌসুমে ভবদহের আড়াইশ গ্রাম তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় চার লাখ মানুষ। ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় সড়কের ওপর। বর্ষা মৌসুম গেলেও এখনো প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে হাঁটুসমান পানি। ডুবে আছে ঘের, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২৩ সেপ্টেম্বর ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবো ও সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের আওতায় হরিহর নদের ৩৫ কিলোমিটার, হরি-তেলিগাতী নদের ২০, আপারভদ্রা নদীর ১৮ দশমিক ৫, টেকা নদীর সাত ও শ্রী নদের এক কিলোমিটার পুনর্খনন করার অনুমোদন দেয়া হয়।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে টিআরএম প্রকল্প গণ-আন্দোলনে গৃহীত হলেও বিগত সরকার ২০১২ সালে “‍সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার’’ অজুহাতে তা বাতিল করে দেয়। মণিরামপুর, কেশবপুর বা অভয়নগর শুধু নয়, জলাবদ্ধতা বিস্তৃত হয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া ও যশোর শহর পর্যন্ত। নদী খনন, টিআরএম চালু, স্লুইসগেট খোলা, আমডাঙ্গা খাল খনন করা এ চারটি দাবি ছিল আমাদের। দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন পানিসম্পদ উপদেষ্টা। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্লুইসগেটের ২১ ভেল্টের ১২টি খুলে দেয়া হয়েছে। প্রবল বেগে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নদী খননের কাজ শুরু হচ্ছে। এতে আমরা আশার আলো দেখছি। তবে খননের সঙ্গে টিআরএম চালু না হলে প্রকল্প ব্যর্থ হবে। আমরা আশা করছি, উজানে নদী সংযোগ ও টিআরএম বাস্তবায়ন হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভবদহের জলবদ্ধতার অবসান হবে।’

পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘আজ ভবদহ এলাকায় নদ-নদী পুনঃখনন কাজ শুরু হচ্ছে। টেকা ও হরিহর খনন শুরু হলে ভবদহের দুর্ভোগ লাঘব হবে। খননের পর পলি অপসারণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া আমডাঙ্গা খাল খননের জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও বেঁড়িবাধ নির্মাণকাজ চলমান। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভোগান্তি লাঘব হবে।’