মিরসরাইয়ে হুমকির মুখে পড়েছে মুহুরী প্রজেক্ট বেড়িবাঁধ। অবৈধভাবে মুহুরী প্রজেক্ট বেড়িবাঁধ থেকে মাটি কাটায় আগামী বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নূর হোসেন মামুন মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন বলে অভিযোগ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, একটি চক্র জোরারগঞ্জ থানাধীন ওসমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট বেড়িবাঁধের পাশ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আগামী বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়বে। মাটি বিক্রির খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা না নিয়ে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরন্নবী।
আরো জানা গেছে, মুহুরী প্রজেক্ট বাজার থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধটি পশ্চিম দিকে ফেনীর নদীর ওপর থাকা ৪০ দরজা স্লুইস গেট পর্যন্ত চলে যায়। বাঁধটি বর্তমানে মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মুহুরী প্রজেক্ট বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে সড়কের উত্তর পাশে বাঁধের গোড়া কেটে গত কয়েকদিন মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় মো. পারভেজ, মো. রিয়াদ, মো. ফরহাদসহ একটি চক্র।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের গোড়ার ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থ পর্যন্ত মাটি কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মাটি নেয়ার জন্য ট্রাক তুলতে বাঁধের পাশে দেয়া চারটি নিরাপত্তা পিলারও ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের যাওয়ার খবর পেয়ে মাটি কাটার স্থান থেকে এস্কাভেটর ও ট্রাক সরিয়ে নেয় মাটি কাটার দায়িত্বে থাকা লোকজন।
মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত মো. ফরহাদ অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, প্রজেক্ট এলাকার বাঁধের ওপর দিয়ে দীঘিতে পানি দেয়া নিয়ে স্লুইস গেট এলাকার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা হয়। কিন্তু মাটি কাটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরন্নবী জানান, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেয়ার খবর পেয়ে আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরপর আমাদের সহকারী উপপ্রকৌশলী মো. মানিক মিয়া বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে ওসি তা না নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নেন। তিনি আরো জানান, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেয়ার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, সব ঘটনায় মামলা হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রজেক্ট এলাকার বেড়িবাঁধের গোড়া থেকে মাটি কাটার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। ডায়েরিটি তদন্ত করে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেয়ায় বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বেড়েছে। যারা এ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।










