উর্বর মাটির কারণে চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সবজি চাষ ভালো হয়। সবজির আবাদকে কেন্দ্র করে জেলায় বীজের একটি বড় বাজারও গড়ে উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর সবজির বীজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ। ফলে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে সবজির দামের ওপর।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি করা বীজের দাম তুলনামূলক বেশি। দেশী জাতের বীজের দাম খুব একটা বাড়েনি। দেশীয় জাতের ভালো বীজ থাকলেও আমদানি করা বীজের ওপর কৃষকের নির্ভরতা রয়েছে। যদিও আগের তুলনায় আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়লে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
জেলার হাটবাজার ও বীজ বিক্রেতাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, আমদানি করা মুলাবীজ গত মৌসুমে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এবার তা ৪ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী জাতের কাঁচামরিচের প্যাকেটজাত দানা বীজের দাম প্রতি কেজি ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৫০০-৫২০ টাকা। আমদানি করা প্রতি কেজি কাঁচামরিচের বীজ গত মৌসুমে ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা, এ বছর তা ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর দেশী জাতের করলাবীজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আমদানি করা করলাবীজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ২১-২২ হাজার টাকা।
এছাড়া আমদানি করা প্রতি কেজি ফুলকপির বীজ এখন প্রায় ৬২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৫৭ হাজার টাকা। হাইব্রিড জাতের পেঁপেবীজ প্রতি ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ টাকায়, যা গত মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। হাইব্রিড মরিচবীজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮-৪০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা।
দেশী মুলাবীজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৩০ টাকা। দেশী জাতের শিমবীজ গত বছর প্রতি কেজি ছিল ৭০০, এবার ১০০ টাকা বেড়েছে। দেশী জাতের বেগুনের বীজ ৬০০ টাকা বিক্রি হলেও গত মৌসুমে ১০০ টাকা কম ছিল। দেশী জাতের পালংশাকের বীজ গত বছরের চেয়ে ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। আলুবীজ এ বছর প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ টাকা বিক্রি হলেও গত মৌসুমে ছিল ২ হাজার টাকা। গত বছর দেশী পেঁয়াজবীজ বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে। এ বছর তা ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশী রসুনবীজের দাম। মণপ্রতি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে রসুন, যা গত বছর ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ মসলাজাতীয় এ বীজের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) মশকর আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমদানি করা বীজের দাম তুলনামূলক বাড়লেও দেশী জাতের সবজির বীজের দাম খুব একটা বাড়েনি। দেশে জলবায়ু সহনীয় ভালো সবজির বীজ দিয়ে চাষাবাদ করলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কৃষকের মাঝে আমদানিনির্ভরতা অনেকটা কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়লে বীজের এ সংকট কেটে যাবে।’










