দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার একটি খামারে গরুর খুরা রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে খামারি ও প্রতিবেশীদের ৩৬টি গরু-মহিষের মৃত্যু হয়েছে। খামারিরা বলছেন, অজ্ঞাত রোগে পশুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মহিষ ও গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের ঘোষপাড়ায় গেলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা জানান, মারা যাওয়ার আগে গাভী ও মহিষের মুখ দিয়ে লালা আসতে শুরু করে। এর পর থেকে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। সময়ের ব্যবধানে লালা পড়া বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গোয়ালঘরের মেঝেতে শুয়ে পড়ে পশুগুলো। শোয়া অবস্থাতেই লালা পড়া আরো বেড়ে যায়। রাত গভীর হওয়ার পর একের পর এক গরু মারা যেতে থাকে। হঠাৎ করে এ ধরনের অজ্ঞাত রোগে একের পর এক গরুর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিসহ এলাকার কৃষক।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলতাফ হোসেন জানান, জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. আশিকা আকবর তৃষাকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল টিম এলাকায় কাজ করছে। মেডিকেল টিমের অন্য পাঁচ সদস্য হলেন দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়া, কাহারোল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ, বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওসমান গণি, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শামীম আরা ও খানসামা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার ঘোষ।
দিনাজপুর জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ড. আশিকা আকবর তৃষা জানান, মৃত পশুগুলোর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এলাকায় আক্রান্ত খামার এবং খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রান্ত গরু এবং মহিষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পশুগুলো খুরা রোগে আক্রান্ত। এলাকায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে খবর বা তাদের সাহায্য না নিয়ে নিজেরাই চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। তারা আক্রান্ত পশুগুলোকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল জাতীয় খাবার না দেয়ায় অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে।










