বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সিলেটের তিনটি চা বাগান শ্রমিকরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বেলা ১টার দিকে তারা সিলেট-বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অবশ্য বেলা ৩টায় স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। তবে বাগানের অভ্যন্তরে কর্মসূচি পালন করছেন। দুপুর থেকে শুরু হওয়া অবরোধের ফলে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
শ্রমিকরা বলছেন, ২০ সপ্তাহ ধরে বেতন পাচ্ছেন না তারা। প্রায় ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সিলেটের বুরজান চা কোম্পানির অধীনে তিনটি চা বাগান রয়েছে। বুরজান, ছড়াগাঙ, কালাগুল ও বুরজান কারখানার শ্রমিকদের ২০ সপ্তাহের বেতন বকেয়া। ১ মে বকেয়া বেতন প্রদান ও চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে নগরীর লাক্কাতুরা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন চা শ্রমিকরা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. আনোয়ার উজ জামানের আশ্বাসে তারা সে সময়ে স্থান ত্যাগ করেন।
চা শ্রমিক নেতা অজিত রায় বলেন, ‘পাঁচ মাস ধরে বেতন ও রেশন বন্ধ রয়েছে। আমাদের একটাই কথা, সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় আমরা রাস্তা ছাড়ব না। কর্তৃপক্ষ আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে জানিয়ে আসছি সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে। এ ব্যাপারে কারো কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস আমাদের লিখিতভাবে না দিলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়্যাৎ বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বকেয়া বেতনসহ যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি।’
লিখিত আকারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা অনেক দিন ধৈর্য ধারণ করেছেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা লিখিতভাবে জানাব যে কবে আমরা এ সমস্যা সমাধান করতে পারব।’










