বগুড়ার সীমানার সঙ্গে গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। প্রতি বছরই ভাঙনের কারণে তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। একসময় চরের জমি পড়ে থাকলেও এখন সেখানে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চরের জমিতে চাষাবাদে কৃষককে আগ্রহী করে তুলেছে। একসময়ের অনাবাদি জমিতে এখন বাড়তি ফসল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চরে এখন হাজার কোটি টাকার ফসলের বাজার সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে চরের জমি পড়ে থাকত। তেমন কোনো চাষাবাদ হতো না। এখন সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলছে। চলতি বছর তিন হাজার হেক্টর জমিতে দেশী ও হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৫০-৭০ মণ মরিচ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে চরাঞ্চলের লাল মরিচ। শুকনো আকারে মরিচের উৎপাদন হবে প্রায় সাত হাজার টন। একটি ফসল ঘরে তুলে আবারো নতুন করে ফসল ফলাতে জমি পরিচর্যার কাজ শুরু করেন কৃষক।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ খাটিয়ামাড়ি চরের মোতালেব হোসেন জানান, চরের মাটিতে আগে তেমন ফসল উৎপাদন হতো না। এখন বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে তারা সংসার পরিচালনা করছেন। চাষীরা চরাঞ্চলে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও সুইসকন্ট্যাক্টের কর্মকর্তারা সবজি ফলানোর নিয়ম, জমি তৈরি, সার, কোন সময় কোন সবজি চাষ করলে আয় বেশি হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
একই এলাকার সাহাদত জামান জানান, তিনি কয়েক বছর ধরেই মরিচ চাষ করছেন। দেশী জাতের মরিচ প্রতি বিঘায় ৫০ মণ এবং হাইব্রডি জাতের মরিচ প্রতি বিঘায় ৭০ মণ পর্যন্ত পাওয়া যায়। মরিচ চাষে লাভ হওয়ায় এলাকার চাষীরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। আগে যেখানে এক বিঘা মরিচ চাষ করে ৪০-৪৫ মণ ফলন হতো। প্রশিক্ষণ ও চরের মাটির সুব্যবহার করে এখন ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৫৫-৬০ মণ। হাইব্রিড জাত চাষ করলে ৭০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
জুন-আগস্ট পর্যন্ত চরাঞ্চলের জমিগুলোয় বন্যার পানি থাকে। পানি কমে গেলে মরিচ, ভুট্টা ও পাটের পাশাপাশি ধান, গম, সরিষা, চিনা বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, আলু, মিষ্টি আলু, রসুন, পেঁয়াজ, কাউন, মসুর ডাল ও খেসারি ডালসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেন। ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চরের চাষীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও সুইজারল্যান্ড সরকার যৌথভাবে এবং বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও সুইসকন্ট্যাক্ট প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা, বিভিন্ন তথ্য দিয়ে কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী, হাটবাড়ী, ফাজিলপুর, তেলীগাড়ী, গওলাডাঙ্গা, মানিকদাইড়, আউচারপাড়া, কাকালিহাটা, সবুজের পাড়া, চকরথিনাথ, দিঘাপাড়া, করনজাপাড়া, বনরপাড়া, কাজলা, জামথল, বগুড়ার সীমানায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন পুরোটায় এখন চর। জেগে ওঠা এসব চরে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি প্রতি মৌসুমে চলছে ধান ও পাটের আবাদ।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিন্টু মিয়া জানান, আগে চরের জমি পড়ে থাকত। এখন আর থাকে না। বিভিন্নভাবে পতিত জমিতে চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা চাষ করছে। চরের ফসল এখন মূল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। যে কারণে বগুড়া ও গাইবান্ধা অঞ্চলে চরের সব ফসল মিলিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি হয়েছে।










