চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর জেলার কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন। তবে পাট পচানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। কারণ এবার ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিল, পুকুর ও ডোবা-নালায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কাটা পাট জাগ দিতে পারছেন না চাষীরা।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার জেলায় পাট চাষের লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে পাট চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩০ হেক্টর বেশি। এরই মধ্যে কাটা হয়েছে ২ হাজার ৬ হেক্টর জমির পাট। এ বছর মোট পাট উৎপাদন হবে প্রায় আট হাজার টন। মাটি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার জেলায় দেশী জাতের পাট উৎপাদনও ভালো হয়েছে।
এদিকে পাটের বাম্পার ফলন হলেও জাগ দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কালের বিবর্তনে পাট জাগ বা পচানোর জলাধার আর খাস পুকুর, নদী-নালা, ডোবা সবখানেই এখন মাছ চাষের জন্য সংরক্ষিত। মাছ চাষের ফলে পাট পচানোর মতো প্রয়োজনীয় জলাধার পাচ্ছেন না এ জেলার কৃষকরা। এছাড়া এ বছর বৃষ্টিপাতও হয়েছে খুব কম। ফলে খাল-বিলও প্রায় পানিশূন্য। এতে পাট পচানোর মতো প্রয়োজনীয় পুকুর বা জলাধার পাচ্ছেন না তারা। পাটের আঁশ ছাড়ানোর রিবেন রেটিং পদ্ধতি এখনো চালু হয়নি এ জেলায়। কাজেই বেশি দাম পেলেও জাগ দেয়া নিয়ে বিপত্তির কারণে আগামীতে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন জেলার চাষীরা।
সদর উপজেলার বামনপুর, মাদারগঞ্জ, সগুনা গ্রামের পাটচাষী মোশাররফ হোসেন, পাঁচবিবির কুতুবুল আলম, আব্দুল ওহাব, জামালগঞ্জ এলাকার বাবু, রবিউল ইসলামসহ একাধিক পাটচাষী জানান, পাট চাষ করে তারা বেশি দাম পেলেও এখানে প্রয়োজনীয় জলাশয়ের অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। এজন্য আগামীতে পাট চাষে আগ্রহ থাকলেও পাট পচানোয় সমস্যা থাকায় পাট চাষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে বাজারে নতুন সাদা পাটের মূল্য ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ আর তোষা পাট ২ হাজার ৮০০ টাকা মণদরে বিক্রি হচ্ছে।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স ম মেফতাহুল বারী জানান, জেলায় পাট চাষের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো পাট পচানোর জন্য অপর্যাপ্ত পুকুর বা জলাধার। প্রয়োজনীয় জলাধার না থাকা, বৃষ্টি কম হওয়া এবং রিবেন রেটিং পদ্ধতি এখনো জেলায় চালু না হওয়ায় পাটচাষীরা সমস্যায় রয়েছেন। এজন্য পাট ছাড়ানোর আধুনিক পদ্ধতি প্রচলনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, জয়পুরহাটে এখনো গড়ে ওঠেনি পাট বিক্রির জন্য আলাদা বাজার ব্যবস্থাপনা। পাট পচানো ও বিপণন সমস্যার সমাধান করা গেলে এ জেলায় আগামীতে পাট চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।










