রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে দেয়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়েছিলেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা প্রকৌশলী মোক্তার আহমেদ। এ সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পিকআপ ভ্যান দিয়ে ধাক্কা দিয়ে তাকে পানিতে ফেলে দেয়। পরে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। এ ঘটনায় তিতাসের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এমন ঘটনা শুধু কড়াইল বস্তিতেই নয়, ঘটছে অধিকাংশ উচ্ছেদ অভিযানে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রকৌশলী মোক্তার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, সংসদ সদস্য ফজলে করিমের বাসায় গ্যাস নেই জানিয়ে ওইদিন সকালে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন মন্ত্রী মহোদয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি গুলশান ১ নম্বরে এমপির বাসার সামনে গ্যাস লাইন পরিদর্শনে যাই। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ওই চেম্বার থেকে অনেকগুলো অবৈধ সংযোগ টানা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যের বাসায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করি। এ সময় একটি অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করি, যেটি মূলত লেকের পানির নিচ দিয়ে একটি হোস পাইপের মাধ্যমে কড়াইল বস্তিতে গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছিল। ওই লাইনটি বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সন্ত্রাসীরা আমাকে প্রথমে লেকের পানিতে ফেলে দেয়, পরে পিস্তল উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হওয়ার পর গুলশান থানায় একটি মামলা করেছে তিতাস। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিমের গুলশানের বাসার সামনে রাস্তার ড্রেনের ভেতরে কড়াইল বস্তির বিদ্যমান অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-৩৮২৮) ধাক্কা দিলে তিতাসের ওই উপব্যবস্থাপক লেকের পানিতে পড়ে যান। পরে আরো দুজন মোটরসাইকেল আরোহী সেখানে উপস্থিত হয়ে পিস্তল উঁচিয়ে মোক্তার আহমেদকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এদিকে তিতাসের ওই কর্মকর্তার ওপর হামলাকারীদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে গত দুইদিন ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসান জানান, তিতাসের ওই কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেয়া পিকআপ ভ্যানটি এরই মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। যে দুজন অস্ত্র উঁচিয়ে তাকে গুলি করার হুমকি দিয়েছিলেন, তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, গ্যাস সঞ্চালনের মূল লাইনে ছিদ্র করে টানা হয় চোরাই লাইন। এ লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অপরিকল্পিতভাবে পাইপে ছিদ্র করার ফলে সেখানে গ্যাস জমা হতে থাকে। একটা সময় জমে থাকা গ্যাস থেকে ঘটে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও। এমন সব দুর্ঘটনা রোধে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান শুরু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। কিন্তু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে প্রায়ই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বস্তিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে থাকেন। প্রতিটি গ্যাস সংযোগের বিনিময়ে এককালীন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। গ্যাসের বিল বাবদ নেয়া হয় ৫০০ টাকা করে। কিন্তু এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। তা চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের পকেটে।










