নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর ইউনিয়নের চারপাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা ও এর শাখা নদী। ১০ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটার দুর্গম এ চরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে পানি থইথই করে। নদীভাঙনকবলিত এলাকা হিসেবেও পরিচিত ইউনিয়নটি। নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত চরের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২০১৯ সালে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। মির্জারচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশে আশ্রয় কেন্দ্রটি নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। তবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। উল্টো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ভবনটি। পরিণত হয়েছে বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে। কাঙ্ক্ষিত সুফল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চরের বাসিন্দারা।
চরের বাসিন্দারা বলছেন, মির্জারচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশে তিনতলাবিশিষ্ট ভবনটি বাইরে থেকে দেখে মনে হবে কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা। অথচ এটি হওয়ার কথা ছিল বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম এবং দুর্যোগকালে বন্যার্তদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। ভবনটির ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ময়লা-আবর্জনা। সিঁড়িতে শেওলা পড়ে আগাছা জন্মেছে। রুমের ভেতরেও শেওলা পড়ে দেয়াল আগাছায় ভরে গেছে। সিমেন্ট কম ব্যবহারের কারণে ভবনের অনেক স্থানেই দেয়াল থেকে খসে পড়েছে টাইলস। তিনতলাবিশিষ্ট ভবনটির প্রধান ফটকসহ কোনো রুমেই দরজা না থাকায় এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেশি।
অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মিনহাজ খান বলেন, ‘চরের কোনো নির্মাণ শ্রমিক এখানে কাজ করে না। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা আসেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব সবসময় লেগেই থাকে। এ কারণেই শ্রমিকরা ভয়ে এখানে কাজ করতে আসতে চান না। ভবন নির্মাণসামগ্রীও লুট হয়েছে কয়েক দফায়। এছাড়া নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন অল্প কিছু কাজ রয়েছে। সেটা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই শেষ করে ভবন হস্তান্তর করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি। লিখিত চিঠির পর তারা জানিয়েছে, দ্রুতই কাজ সম্পন্ন করবে।’
সার্বিক বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রটির কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় কোন্দলের কারণে কাজটি বারবার পেছাতে হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’










