ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার নির্বাচন কমিশনে ২০২৪ সালের দলের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়তো অনেক কিছু এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা উন্নত হয়নি। কিন্তু তারপরেও মানুষের মধ্যে যে আশা জেগে ওঠেছে যে, অন্তত শেখ হাসিনার দুর্বৃত্তপরায়ণ কোনো প্রশাসনের দ্বারা অথবা তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা এখানকার গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আর নিপীড়নের শিকার হবে না।
সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ইসি গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। সব রাজনৈতিক দল ও মানুষের কাছে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গড়ে উঠবে— প্রত্যাশা করি।‘
বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন সম্ভব কি না কিংবা ভোট বানচালের শঙ্কা করছেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, ‘যারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছিল, সেই সমস্ত দোসররা তো বসে নেই। তারা নানাভাবে, নানা কায়দায় চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
এসব বিষয়গুলোকে আইডেন্টিফাই করে নির্বাচনবিরোধী কোনো শক্তি যেন কোনো ধরনের চক্রান্ত করতে না পারে, সেটা দেখার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। তারা সে কাজটি করবেন। যে সময় রয়েছে, সে সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবেন।‘
তিনি বলেন, “আমরা বলেছি- সবসময়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দলগুলোর সমর্থন আস্থা রয়েছে; সে আস্থার সঠিক ও ইতিবাচক কাজ প্রদর্শন করবেন- যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। যাতে কোনো ভোটার ভয় না পায়, ভোটেকেন্দ্রে গেলে আশঙ্কা, ভয়ভীতি থাকতে পারে- এসব নিরসন করার দায়িত্ব সরকারের।
আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে সরকারের অনুগত ও শেখ হাসিনার পদলেহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল মন্তব্য করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা হারিয়ে গিয়েছিল, অনেকটা ফ্যাসিবাদী অস্ত্রের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছিল ইসি। দলান্ধ লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
রিজভী বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের যে স্বাধীনতা, তাদের স্বাধীন যে অধিকার দেয়া আছে, সেই অধিকার দিয়ে সেই স্বাধীন বিধানগুলো প্রয়োগ করে নির্বাচনকে বানচাল করার অথবা নির্বাচনকে নিয়ে যেকোনো গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাহসী ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে।‘















