ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগী তাবাসসুম ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতেই কতৃর্পক্ষের নির্দেশে হল ছেড়েছেন। এদিন দুপুরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাদেরকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার নির্দেশ দেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রভোস্ট ওই দুজনের হল ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অভিযুক্তদের সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই তাদের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ইবি শাখার সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত। তিনি বলেন, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে রাতভর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বুধবার হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আজগর হোসেন তুহিন। তখন তাদের লিখিত আবেদন দিতে বলেন আদালত। সে অনুসারে তারা জনস্বার্থে রিট করেন।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসের বাইরে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে অভিযুক্তদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তারা সন্ধ্যার পর হল ছেড়েছে।’
এদিকে যেখানে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে সেই গণরুম থেকে কয়েকজন ছাত্রী হল ছেড়ে গেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে তদন্তকাজ ব্যাহত করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘কয়েকজনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলে যাওয়ার কথা শুনেছি। ওই রুমের কেউ-ই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নন, তারা অনাবাসিক হিসেবে হলে থাকার অনুমতিপ্রাপ্ত।’










