জয়পুরহাটে এবার শজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ শজনে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় হাটবাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি শজনে ডাঁটার প্রচুর আমদানি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে শজনে ডাঁটার ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা থাকায় স্থানীয় হাটবাজারেও শজনে ডাঁটার দাম পাওয়া যাচ্ছে।
একসময় বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জমিতে শজনে গাছ লাগানো হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় ও চাহিদা বেশি থাকায় কৃষক ফসলি জমিতে শজনে চাষ শুরু করছেন। পরিকল্পিতভাবে শজনের চাষ করে লাভবানও হচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় হাটবাজারগুলোয় মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর শজনে ডাঁটার চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
মৌসুমের শুরুর দিকে প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে হাটবাজারে এর দাম কমে এসেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজার ৬০-৭০ টাকা ও খুচরা বাজারে ৮০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
জেলার সবচেয়ে বড় সবজি বাজার নতুনহাট। এ বাজারের সবজি বিক্রেতা বাবু জানান, চলতির মৌসুমের শুরুতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে শজনে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে শজনের ডাঁটা। প্রচুর আমদানি সত্ত্বেও শজনে ডাঁটার বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে।
পাইকারি বিক্রেতা রবিউল আলী বলেন, ‘দেশের সব অঞ্চলে শজনে ডাঁটার চাহিদা রয়েছে। আমি প্রতি বছর শজনে ডাঁটা চট্টগ্রাম-ঢাকা, নাটোর, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করি। জয়পুরহাট অঞ্চলে ব্যাপক শজনে ডাঁটার গাছ আছে। এ বছর ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় শজনে ডাঁটার ফলন বেশি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর লাভ বেশি পাচ্ছি।’
নতুন হাটে শজনে বিক্রি করতে আসা কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘শজনে চাষ অন্য ফসলের চেয়ে অনেক সহজ। কারণ শজনে গাছের ডাল থেকে নতুন গাছ সৃষ্টি হয়। এ বছর ডাল রোপণ করলে আগামী বছর গাছে ফল পাওয়া যায়। শজনে চাষের জন্য বাড়তি খরচ হয় না। বাড়িতে বড় চার/পাঁচটা গাছ থাকলে বছরে ৭/৮ হাজার টাকা আয় সম্ভব। আমার বাড়িতে ছয়টা গাছ আছে। ফলনও বেশি হয়েছে। শুরুতে ভালো দাম পেয়েছি। এখনো দুটি গাছে যে শজনে আছে তা আরো ৪-৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। যদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায় তাহলে অন্য ফসলের মতো শজনে ডাঁটাও কৃষিতে সাফল্য বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘শজনে একটি ডাঁটা জাতীয় সবজি হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। এটি বিভিন্ন তরকারির সাথে রান্না করে খাওয়া যায়। শজনের ডাঁটায় প্রচুর ভিটামিন রয়েছে। শজনে চাষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও এটি জয়পুরহাটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উৎপাদন হয়।এ এলাকা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শজনে ডাঁটা পাঠিয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষী ও ব্যবসায়ী।’










