সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় জনসংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ জন। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার জন্য ১৯৭৬ সালে নির্মিত হয় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে অনুপাতে চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। মাত্র চারজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালটি। এছাড়া প্রায় পাঁচ দশক আগে নির্মিত ভবনটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, মাঝেমধ্যেই জরাজীর্ণ ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা ধসে পড়ছে। বৃষ্টির পানিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাব নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে অধিকাংশ রোগীর যেতে হচ্ছে খুলনাসহ দেশের অন্যান্য হাসপাতালে।

সেবা নিতে আসা পূর্ণিমা রানী বলেন, ‘হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার জন্য এসেছি। এসে দেখি কক্ষে ফ্যান নেই, বালিশ নেই, বিছানার চাদর নেই, ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। চিকিৎসক সংকট। ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। সুস্থ হতে এসে মনে হচ্ছে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’

শায়লা আক্তার নামে আরেক রোগী বলেন, ‘আমি যে রোগের জন্য এসেছি সে রোগের ডাক্তার এখানে নেই। দূরের হাসপাতালে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই এখানে এসেছি।’

সেলিনা সুলতানা বলেন, ‘চর্ম রোগের চিকিৎসা নিতে এসেছি। এসে দেখি চর্মরোগের ডাক্তার নেই। হাসপাতালে গাইনি ডাক্তারও নেই। যাদের সামর্থ্য আছে তারা খুলনায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়। আমাদের সামর্থ্য না থাকায় সুচিকিৎসা নিতে খুলনায় যেতে পারি না।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১১ সালে আরো ১৯ শয্যা বাড়িয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতালে এখন চারজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। অথচ অনুমোদিত ১৯ চিকিৎসকের মধ্যে ১১ জন কনসালট্যান্ট শুরু থেকে যোগদানই করেননি। আবার চারজন চিকিৎসকের মধ্যে দুজন চলে গেছেন ট্রেনিংয়ে।

রায়েন্দা বাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন খান বলেন, ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। একই সঙ্গে ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা সব সময় রোগীদের আতঙ্কে রাখছে।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, ‘জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিদিন বহির্বিভাগে চার শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যদিকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন অন্তত ৮০ জন রোগী, যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। ভবন ও জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অনেক সময় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়। নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।’