চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৩০০ কৃষক। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রবি মৌসুমে কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এ তালিকায় রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৬১০ কৃষককে। বাকি ৬১ শতাংশ কৃষকই থাকছেন প্রণোদনার বাইরে। বন্যায় কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৫ টাকা, যা ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্টে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৪৫০ কৃষকের আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১২ হাজার ৮০০ কৃষকের আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ১৩ হাজার ১০০ কৃষকের রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯৫০ কৃষকের শরৎকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪১ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। রবি মৌসুমে ১ হাজার ১০ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে গম, সরিষা, ভুট্টা, চীনাবাদাম ও ফেলন ডালের বীজ দেয়া হবে। এছাড়া ৩ হাজার ৬০০ কৃষক পাচ্ছেন ধানের বীজ। তিন হাজার কৃষক পাচ্ছেন সবজিবীজ ও নগদ ১ হাজার টাকা। প্রতি কৃষক ১ কেজি ২৩০ গ্রাম সবজি বীজ পাবেন।

তবে কৃষকরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় প্রণোদনা অপ্রতুল। বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে কৃষকদের কয়েক বছর সময় লাগবে। তাই বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের পানচাষী নারায়ণ আইচ বলেন, ‘বন্যায় আমার ১০ শতাংশ পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বরজ ভেঙে গেছে। এখনো সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি ঋণ নিয়ে বরজ মেরামত করেছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চলতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ হাজার ৩০০ কৃষকের তালিকা আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে এসব কৃষকের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন স্থান থেকে বীজ সংগ্রহ করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন। আমরা নিয়মিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ হাজার ৬১০ কৃষকের জন্য ২ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৫ টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ পেয়েছি। এরই মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়েছে।’